অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণের সিসি ব্লকে ধ্বস


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩শে এপ্রিল ২০২৪ রাত ০৯:৪৬

remove_red_eye

৩৬৮

একটি লঞ্চঘাটসহ ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :  ভোলায় উত্তাল মেঘনা নদী আবারও ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করেছে। তীব্র স্রোত আর ঢেউ এর আঘাতে  ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণের একটি পয়েন্টে সোমবার রাতে হঠাৎ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)প্রায় ৫০ মিটার সিসি ব্লক ধ্বসে গেছে। এতে করে থাকা লঞ্চঘাটসহ ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি মাছঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকার মানুষের মাঝে ভাঙ্গন আতংক দেখা দিয়েছে। ইতো পূর্বে ইলিশায় ব্লক ধ্বসে ১ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে,অপরিকল্পিত ভাবে যে খানে সেখানে লঞ্চঘাট নির্মান করায় এমন ধ্বসের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় ঝুকিপূর্ন পরিস্থিতি সেখানকার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মাছঘাটেও ফাটল দেখা দিয়েছে। বাবার ভাঙনের মুখে দোকান পাট অন্যত্র সরিয়ে নিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ গুলো ঋনের বোঝা ভারি হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান,সোমবার রাতে হঠাৎ ইলিশা লঞ্চঘাটে ৫০/৬০ হাত এলাকা ব্লক নদীতে তলিয়ে গেছে। ৩টি দোকান নদী গর্ভে চলে গেছে। তারা মালামালও সরাতে পারেনি। দোকানের ব্যবসায়ীরা এখন দিশে হারা হয়ে পড়েছে।  ব্লক ধ্বসের কারনে লঞ্চঘাটে আসা যাওয়া করা যাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই ব্লক যদি আরো ৫০ হাত ভেঙ্গে যায় তা হলে মূল বেড়িবাধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।   তাদের অভিযোগ,ইলিশা লঞ্চঘাটে অনেক লঞ্চঘাট করে। অতিরিক্ত লঞ্চের ঢেউ এর আঘাত ও চাপের কারনে বার বার এমন ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটছে।
 ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, ইলিশায় এই ব্লক গুলো ভেঙ্গে নদীর মধ্যে যাবে এবং স্লোভ হয়ে নদী ভাঙ্গন ঠেকাবে। এটা তাদের ডিজাইন। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত বেড়ে গেছে। নদীর পাড়ে আঘাত করছে। তাই ভাঙ্গছে। তিনি আরো জানান, পাশেই দুটি ফেরিঘাট থাকলেও সেখানে ভাংছে না। কারন সেখানে ফেরিঘাটের উপযোগী করে ডিজাইন করে ব্লক ফেলা হয়েছে। কিন্তুু বিআইডব্লিউটি যে খানে সখানে নতুন নতুন ঘাট তৈরী করে। সেখানে লঞ্চ প্রচুর ধাক্কা দেয়। কিন্তু ওই ঘাটের জন্য পাউবোর বিশেষ ডিজাইন করে প্রচুর ব্লক দেয়া হয়নি। যে কারনে এমন ব্লক ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা,ভাঙন বা ধ্বসের পরিমান কতো টুকু হচ্ছে পর্যবেক্ষন করছেন এবং উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪/১৫ সালে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকার কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থায়ী ভাঙন রোধে ২০২১ সালে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যায় ওই এলাকার ৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষন ব্লক বাঁধ ও সাড়ে ৩ কিলোমিটার নদী সংরক্ষণ সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা হয়।