অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩রা মে ২০২৬ | ২০শে বৈশাখ ১৪৩৩


শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনের এক অনন্য হাতিয়ার পানি: প্রতিমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২শে মার্চ ২০২৪ বিকাল ০৪:০৮

remove_red_eye

২৪১

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব সংকট বাড়ছে তার অন্যতম সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানি। জলবায়ুর পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণেই নয়, এর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণও রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি- সম্প্রীতি স্থাপনের এক অনন্য হাতিয়ার পানি। বৈশ্বিক-আঞ্চলিকভাবে ভূ-উপরস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির গুনগত মান বজায় রাখা, জলাধারের পানি প্রবাহ অটুট রাখা, পানির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার এবং পানির অপচয় রোধে সচেতনতার প্রসার করতে হবে।

শুক্রবার (২২ মার্চ) রাজধানীর পানি ভবনের হলরুমে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

''শান্তির জন্য পানি" প্রতিপাদ্যের আলোকে দিবসের শুরুতে বর্নাঢ্য র্যালি পানি ভবন থেকে সার্ক ফোয়ারা পদক্ষিণ করে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান' স্লোগানের আলোকে পানি খাতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলকেই সচেষ্ট হতে হবে। আগামী দিনের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পানি সংবেদনশীল টেকসই উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং ধাপে নাগরিককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখাতে হবে। নদীর পানি প্রবাহ বজায় রাখা, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ, পানি দূষণ প্রতিরোধসহ সব ক্ষেত্রে কার্যক্রম অব্যহত রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন, জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে ব-দ্বীপ পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণে সর্ব্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও আগামী প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনের এক অনন্য হাতিয়ার পানি: প্রতিমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, দেশে ভূগর্ভস্থ পানির মূল ব্যবহার খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, সেচ কাজ এবং শিল্পক্ষেত্রে। ভূগর্ভস্থ পানির বহুমাত্রিক ব্যবহারের ফলে এর উপর আমাদের নির্ভরশীলতা বাড়ছে, সম্পদটি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে। ফলে জনসাধারণের সুপেয় পানি প্রাপ্যতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সেচের পানির সরবরাহ করার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি-কৌশল খুঁজে বের করার জন্য পানি প্রকৌশলী, সেচ প্রকৌশলী, মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ। অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, বাঁধের উপর অবৈধ স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যয়বহুল স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষা করার ক্ষেত্রে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য করেন বাপাউবো এর মহাপরিচালক মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা। আলোচনা করেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান। দিবসের প্রতিপদ্যের ওপর আলোচনা করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লুএম) এর নির্বাহী পরিচালক মো. জহিরুল হক খান।

 

সুত্র জাগো