অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩রা মে ২০২৬ | ২০শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় টমেটো খেতে রোগের আক্রমন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ রাত ১০:৩৪

remove_red_eye

৩৫৭

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় চলতি মৌসুমে টমেটো খেতে রোগের আক্রমনে শতশত একর জমির টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন কীটনাশক কিংবা বালাইনাশক ঔষধ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। লাখ লাখ টাকা চলান খাটিয়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষিবিভাগ বলছে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন টমেটো চাষিরা।

দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট মানিকা গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, দুই লক্ষ টাকা খরচ করে এক একর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। ফুলে ফলে ভরে উঠেছিল খেত। প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাত করে দেখেন  টমেটোগুোতে কালো দাগ পড়ছে এবং শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এরপর পচে যাচ্ছে। সেই সাথে গাছের পাতা, ডগা শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। এখন দেখে মনে হয় গোটা খেত পুড়ে গেছে। দিশে হারা হয়ে পড়েন ফরিদ মিয়া। কৃষি কর্মকর্তা  এবং বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির লোকজনের সাথে পরামর্শ করেছেন। কৃষিবিদরা মাঠে গিয়ে সরজমিনে দেখেছেন। যে যেই ঔষধ দিতে বলেছেন, তা ই দিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এক একর জমির সম্পূর্ণ টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে। একটি টমেটোও বিক্রি করতে পারেন নি তিনি। শুধু ফরিদের নয়, একইভাবে  নষ্ট হয়ে গেছে কৃষক আলম,  জাকির, আল আমিন, শাহাবুদ্দিন, জহিরসহ ওই এলাকার প্রায় সকল চাষির টমেটো। জাকির হোসেন জানান, তিনি আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করে দেড় একর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। ৩০ টাকা করে মাত্র ২২ কেজি টমেটো বিক্র করতে পেরেছেন। তিনি জানান, দাম বশ ভাল। যদি ফসল নষ্ট না হত তা হলে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্র করতে পারতেন। এখন তিনি এই লোকসান কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে চলতি মৌসুমে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৯৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের টমেটোর আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান প্রায় সবগুলো খেতই এই রোগে আক্রান্ত হয়।  বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক এবং  ছত্রাকনাশক দিয়েও ফসল রক্ষা করতে পারেন নি  কৃষকরা। তারা জানান অজ্ঞাত এই রোগের বিষয়ে কেউ তাদেরকে কোন কার্যকরী পরামর্শ দিতে না পারায় চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মন্ডল জানান, বৃষ্টি এবং কুয়াশার কারণে টমেটো খেতে রোগের আক্রমণ হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা পরামর্শ মেনে ঔষধ প্রয়োগ করেছে তাদের ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাত করে টমেটো খেতে এই রোগের আক্রমণ হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ এনজিও ব্যক্তিত্ব মোঃ শেখ ফরিদ। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে  কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শেখ ফরিদ জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এর করণে সারা পৃথিবীতেই কৃষির উপর একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দিন রাতের তাপমাত্রার তারতম্য দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন টমেটোসহ আরও এমন অনেক ফসল রয়েছে যা রক্ষা করতে হলে গ্রিন হাউজ সিসটেমে যাতে হবে।

একই কথা বলেছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: হাসান ওয়ারিসুল কবীর।  তিনি বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ২২৫ হেকটর জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে টমেটো উল্লেখযোগ্য একটা জায়গা দখল করে আছে। কিন্তু রোগের আক্রমণে টমেটো চাষিদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার মিধিলির আঘাত হেনেছিল। জলবায়ু পরিবর্তনএর কারণে অসময়ে বৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং কুয়াশার কারণে টমেটো খেতে বলাইট রোগ হয়েছে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগের ফলে রোগের আক্রমণ কিছুটা কমেছে।  বাজার দর যেহেতু ভাল তাই কিছুটা ক্ষতি হলেও আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন।