অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২রা জুন ২০২০ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭


বাংলার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর মানসিক ভারসাম্যহীনদের খাবার দিচ্ছে সমাজ সেবা


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১৪ই এপ্রিল ২০২০ বিকাল ০৪:৪৮

remove_red_eye

৫৯

অচিন্ত্য মজুমদার::  দৈনিক বাংলার কন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ভোলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মাঝে খাবার সরবরাহ করার দায়িত্ব নিলো সমাজ সেবা অধিদপ্তর। এর আগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় সরকারের নির্দেশনায় জেলার সকল হোটেল রেস্টুরেন্ট, খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে গেলে এই জনগোষ্ঠী অসহায় হয়ে পড়ে। ঠিক তখন এসব অসহায় মানুষর জন্য খাবার সরবরাহ শুরু করায় সমাজ সেবার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয়রা।
 
সরিজমিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের সংখ্যা ঠিক কতজন তার হিসাব নেই। তবে প্রায় শতাধিক মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ রাস্তাঘাট, হাট-বাজারের বিভিন্ন দোকানের বারান্দা বা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে। করোনা ভাইরাস সংক্রমন থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এসময় কর্মহীন মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গ্রামে গ্রামে। কিন্তু এইসব মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের কাছে সাধারণত খাবার পৌঁছে না। করোনার কারণে এই মুহূর্তে কারো বাড়িতেও তাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বাজারের হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে তাদের দিন কাটছিল। এ অবস্থায় গত ২ এপ্রিল বাংলার কন্ঠে ভোলার মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে একটি প্রতিবেদনর প্রচারের পর এদের নিরাপত্তার দাবিতে বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠে। এরপর গত ৭ এপ্রিল থেকে এদের খাওয়ার দায়িত্ব নেয় জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর। প্রতি দিন বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাদেরকে খুঁজে বের করে ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে সংস্থাটি।

সংস্থাটির এমন উদ্যোগকে মানবিকতার একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত বলে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে খাবাবের পাশাপাশি এসব মানসিক ভারসাম্যহীনদের একটা নিরাপদ যায়গায় রাখার দাবিও জানান তারা।

এসময় পথচরী প্রণয় কুমার সাহা, মোঃ মনির হোসেন ও স্বপন দে জানান, ভোলার রাস্তায় কিছু ভবঘুরে পাগল রয়েছে। যারা প্রতিবন্ধি রাস্তা ঘাটে পড়ে থাকে। যাদের খাবার হোটেল রেস্টুরেন্টের উপর নির্ভরশীল ছিল। এদের খাবার দেয়ার দায়িত্ব সমাজ সেবা নিয়েছে। টা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এর পাশাপাশি যদি তাদের সেফ হোমে রাখা যেত তাহলে এদের মাধ্যমে করনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি থাকতো না বলেও জানান তারা।

ভোলা জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকমোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন টেলিভিশন পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক মহদয়ের সাথে আলাপ করি। এরপর করোনা ভইারাস দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে ভোলার পথেঘাটে পড়ে থাকা অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায়দের জন্য প্রতিদিন রান্না করে খাবার পৌছে দেয়ার শুরু করেছি। পাশাপাশি আমরা তাদেরকে জামা কাপড়েরও ব্যবস্থা করছি। যতদিন করোন ভাইরাস ঠেকাতে জেলায় লকডাউন পরিস্থিতি থাকবে ততদিন এসব মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তর খাবারের ব্যবস্টথা করবে বলেও জানান তিনি।




আজকের সাহরীর ও ইফতারে সময় সূচী ভোলা জেলার জন্য