অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৫ই মে ২০২৬ | ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


ঘূর্ণিঝড় মিধিলি: ভোলায় ৮০ কোটি টাকার ধান ও শীতকালীন সবজির ক্ষতি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে নভেম্বর ২০২৩ রাত ১০:৫০

remove_red_eye

৩০৬



দুচিন্তায় কৃষকরা দিশেহারা


হাসিব রহমান : আর মাত্র ৩ সপ্তাহ পরেই কথা ছিলো পাকা সোনালী ধান কেটে ঘরে তুলবে। ধার দেনা পরিশোধ করে লাভের মুখ দেখবে। কিন্তু শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় মিধিলি'র তান্ডবে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্ত মুন্সি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন ব্যাপারী ৬ গন্ডা জমির আমন ধান এখন পানির নিচে পচে যাচ্ছে। একই এলাকার কৃষক মোঃ মাকসুদ কবিরাজ জানান, তিনি এক একর জমিতে শীতকালিন আগাম লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেন। তিনি ধার দেনা করে লাভের আশায় সবজি আবাদ করেন। কিন্তু সব ফসসের অঙ্কুর মাটির সাথে মিশে গেছে।  ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে কৃষক সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ৬ এক জমিতে ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে তিনি ক্যাপসিক্যাম,শাসা, চিচিংগাসহ বিভিন্ন সবজি আদাদ করেন। তার পুরো ক্ষেতের রকমারি ফসল যখন বড় হয়ে উঠবে তখন ঝড়ে সব নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের মতো এমন কয়েক হাজার কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।  ভোলা কৃষি বিভাগের মতে, প্রাকৃতি এই দুর্যোগ ঘর্ণিঝড়ে ভোলা জেলায় ৩৫ হাজার ১৮০ কৃষকের  ৪ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে চরম দুচিন্তায় কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হারাম গেছে।


 গত শুক্রবার দ্বীপ জেলার ভোলার উপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। আবহাওয়া অফিসে রেকর্ড অনুযায়ী ওই দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায়  ভোলায় ২৫৫.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। মিধিলির প্রভাব কেটে গেলেও  ভোলা জেলা জুড়ে তার ক্ষতির চিহ্ন রয়ে গেছে। ভোলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ক্ষেতের কাঁচা পাকা ধান পানির  ডুবে রয়েছে। আবার আবার অনেকের  লাল শাক,পালং শাক,ধনেপাতা,মূলা সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি ক্ষেতের চারাগুলো অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন বিরুপ আচরনে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে ভোলার কৃষকরা। অনেক কৃষক ধার দেনা করে ফসল আবাদ করে। তারা এখন মাথায় ঋণের বোঝা নিয়ে হতাশায় জর্জরিত । কিভাবে এই ঋণ শোধ করবে তার উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। ধার দেনা পরিশোধের চিন্তার ছাপ এখন তাদের চোখে মুখে। তারা বলছে, সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।


 ভোলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভোলা জেলায় ২ হাজার ৯০ হেক্টর জমির আমন ধান, ২৮৮ হেক্টর জমির সরিষা , ১ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমির খেসারি ডাল, ৪০ হেক্টর জমির গম , ১ হেক্টর জমির পান ও ২৯০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি ক্ষতি হয়েছে । টাকার অংকে এই ক্ষতি পরিমাণ  ৮০ কোটি ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ভোলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  মোঃ হাসান ওয়ারেসুল কবির ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত থেকে দ্রæত পানি নিষ্কাশনের জন্য পরামর্শ দেন।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি  তালিকা তৈরির কাজ চলছে ।  তাদের প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।