অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৫ই মে ২০২৬ | ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কেড়ে নিলো ভোলায় ক্যান্সার আক্রান্ত জেলে ছিদ্দিকের শেষ সম্বল টিনের ঘর


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই নভেম্বর ২০২৩ রাত ১১:১৭

remove_red_eye

২৮৫

হাসিব রহমান: জেলে ছিদ্দিক। তার শরীরে বাসা বেধেছে মরণ ঘাতক ক্যান্সার রোগ। এই রোগের পিছনে তার যা ছিলো সব ব্যায় করেছেন। এখন ঠিকমতো তার চিকিৎসাই চলে না। স্থানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন বিপদের মধ্যে তার শেষ সম্বল এক মাত্র মাথা গোজার টিনের ঘরটিও শুক্রবার বিকালে ঘুর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। এখন তার আর মাথা গোজার কোন ঠাই নেই। পরিবারের ৮ সদস্য ওই ঘরের নিচে চাপা পড়ে। কোন রকমে তারা প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও ঘরের কোন মালামালই রক্ষা করতে পারেনি। এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবারের সদস্য নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ গ্রামে গিয়ে সরেজমিনে এ অবস্থা দেখা যায়। ছিদ্দিক জানান, শুক্রবার দুপুরে তার স্ত্রী, সন্তান, পুত্র বন্ধু, নাতিসহ পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে ঝড়ের সময় ঘরেই ছিলেন। সকলেই ঘরের নিচে চাপা পরে। কোনরকমে সকালে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও ঘরের সবকিছু চূর্ণ-বিচুন হয়ে গেছে। ঝড়ের পর দিন আজ শনিবার তাদের চুলাও জ্বলেনি। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। পরিবারের সদস্যদের চোখমুখে দুশ্চিন্তা ছাপ। কি ভাবে তারা ঘর আবার তুলবে তা তাদের জানা নেই। তাদের ঘর মেরামতের কোন সামর্থ্য নেই। কিন্তু এখনো কোন সহয়তা পায়নি । ভোলার সুন্দর খালি গ্রামেও এমন ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য পাওয়া যায়। এমন বহু বিধ্বস্ত পরিবার ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। শুধু ঘর বাড়ি দোকান পাট বিধ্বস্ত হয়নি। কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
  অপর দিকে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছপালা ভেঙেচরে উপরে আছে। বিদ্যুতের খুঁটি কাত হয়ে পরে আছে। তার ছিঁরে গেছে। অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ নেই। ভোলা ইলিশা ও রাজাপুরে মেঘনা নদীর তীরে ঘাটে বহু জেলের নৌকা ভেঙে বিধ্বস্ত হয়েছে। এদিকে তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ৪ জেলেসহ একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসময় তিনজনকে উদ্ধার করা গেলেও বাদশা মিয়া (৫০) নামের এক জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তজুমদ্দিন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ।
ভোলা জেলা ত্রানও পুনবার্সন কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসোইন সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক ভাবে ভোলা জেলায় দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৭৮ হাজার ১১১ জন। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, জেলায় ঝড়ে ৪২৬ টি আংশিক ও ৭৩ টি ঘর সম্পূর্ণ ভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা দুর্গগ ব্যবস্থপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদা দিয়েছি।
এদিকে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভোলায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তীতে তাদের পুনর্বাসের ব্যবস্থা করা হবে।