অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই জুলাই ২০২৬ | ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় ২০ বছর ধরে শেকলে বন্দী জীবন , শেকলই 'শত্রু'


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০শে মার্চ ২০২০ ভোর ০৫:০৮

remove_red_eye

৭৮৬

আকতারুল ইসলাম আকাশ: দুই যুগ ধরে শেকলবন্দি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেদুয়া গ্রামের আব্দুল রশিদ ঢ়াড়ী। বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচে কৈশোর-যৌবন, আর অসংখ্য শীত-বর্ষা কাটিয়ে এখন জীবনের শেষবেলা তার। ছাড়া পেলেই সে হিংস্র হয়ে ওঠে, তাই মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকটিকে শেকলে বেঁধে রেখে দায়িত্ব শেষ করেছেন সবাই। গত ২০টি বসন্তে এই শেকলটি তাই রশীদের সবচেয়ে বড় বন্ধু আবার সবচেয়ে বড় শত্রুও।
 
মূলবাড়ির ভেতরে টানা-টানা লম্বা দুটি দোচালা ঘরে পার্টিশন দেয়া খোপ খোপ ঘরগুলোতে বাস করে দুই ভাইয়ের পরিবার। মাটি-লেপা পরিচ্ছন্ন বড় উঠানের পশ্চিমে গাছ-গাছড়ার ঝাড়-জঙ্গল। মাথার সিঁথির মতো মেঠো পথ ধরে এগিয়ে যেতেই পায়ে বাঁধা শেকল ধরে প্রাণপণ টানাটানি করতে দেখা গেলো মধ্যবয়স পেরুনো লোকটিকে।
 
শেকলের আরেকটি প্রান্ত বাঁধা স্কুলের বিমের সঙ্গে। শিকল ছিড়ে মুক্ত হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা তার সফল হয়নি ২০ বছর ধরে। শেকলের বৃত্তের ভেতরই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয় তাকে, সেখানেই তার আহার-নিদ্রা। তার কাছাকাছি যায় না কেউ। মাঝেমধ্যে দূর থেকে লম্বা লাঠি দিয়ে ঠেলে দেয়া হয় ভাতের থালা।
  
সরেজমিনে দেখতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক আকতারুল ইসলাম আকাশ। শোনা যাক তার মুখ থেকেই। 
 
সাহস করে কাছে গেলাম। হাত বাড়িয়ে দিতে হ্যান্ডশেক করেন শেকলবন্দী রশীদ। কেমন আছেন? জানতে চাওয়ায় বিড়বিড়িয়ে শুধু বললেন, আমি বাড়িতে যামু...!!! 
 
পরিবারের সদস্যরা জানান, তার বয়স যখন ৮ বছর। তখন তার মা এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। তখন মায়ের পিছু পিছু ধান ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে রওনা হন রশিদ। তবে দুর্ভাগ্য কিছু পথ যাওয়ার পরেই পিছন থেকে এক বিষাক্ত সাপ কামড় দেয় তাকে। আর সেখান থেকেই তার সমস্ত দেহে প্রবেশ করে বিষ। আর সেই বিষেই বিষাদ হয় তার জীবন। মাঝেমধ্যে ভালো থাকলেও আজ প্রায় ২০ বছর ধরে ভালো হচ্ছেন না তিনি। সুযোগ পেলেই সামনে যা পান তা নিয়ে তাড়া করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালায় লোকজন। তার হাতে আহত হয়েছেন অনেকে। যাদের মধ্যে পরিবারের দুই নারীও আছেন। তার হাত থেকে রক্ষা পায় না গরু ছাগলও। গরু ধরে লেজ কাটা, ছাগলের পা কাটা, ডানা ধরে হাঁস-মুরগী ছিঁড়ে ফেলা ছিলো তার প্রতিদিনের কাজ। তাই বাধ্য হয়েই বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা।
 
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, জনপ্রতিনিধি-হাসপাতালসহ সবখানেই ধর্ণা দিয়েও প্রতিকার সমাধান পাননি। তবে পরিবার আশায় বেঁধেছে দিন। কেউ যদি অর্থ দিয়ে সাহায্য করত রশীদ ঢ়াড়ীকে। তাহলে হয়তো সুস্থ মস্তিষ্কে বেঁচে থাকত আব্দুল রশিদ।




আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: জামায়াত আমির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকারের অংশগ্রহণ

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা :  সোহেল তাজ

একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা : সোহেল তাজ

আরও...