ভোলা, বুধবার, ১লা এপ্রিল ২০২০ | ১৭ই চৈত্র ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক


২৬শে মার্চ ২০২০ রাত ১১:০৬




নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে করোনা ঝুঁকি নিয়ে আজও ভোলায় মানুষের ঢল

ভোলা সদর

 

আকতারুল ইসলাম আকাশ: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাসের চরম ঝুঁকি নিয়ে ফেরি, নৌকা ও ট্রলারে করে আজও হাজার হাজার মানুষ দলে দলে ভোলায় প্রবেশ করছে।আজ বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিসির একটি ফেরিতে ভোলার ইলিশা ঘাটে এসেছে প্রায় ৬'শ যাত্রী। এছাড়া দিনভর নৌকা, ট্রলার ও স্পীডবোটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোলায় যাত্রী আসলেও এদের নিয়ন্ত্রণে ঘাটগুলোতে কোন উদ্দ্যোগ দেখা যায়নি।
 
স্থানীয়রা জানান, সবচেয়ে বেশি যাত্রী এসেছে রাতের বেলায়। তাছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় ভোলা- ইলিশা ফেরিঘাটের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষকে দলবেঁধে ছুটতে দেখা গেছে। এদের নেই ভাইরাস প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা। এমনকি অধিকাংশকেই দেখা গেছে মাস্ক বিহীন। হাতে গ্লোভস নেই। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে একা চলার পরিবর্তে এরা উৎসব আমেজে গন্তব্যে ছুটছেন। সরকারি ছুটির ঘোষণায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নানা ভোগান্তির কারণে তারা স্বজনের কাছে ফিরছেন বলে জানান। এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পুলিশ ও নৌবাহিনী বন্ধ করে দেন সীমিত যান চলাচলও। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা যাত্রীরা।
 
অভিযোগ রয়েছে মজু চৌধুরী ঘাট থেকে অবৈধভাবে যাত্রী নিয়ে আসা ট্রলার, স্পিডবোট ও স্টিল বডি ঘাটে ভিড়লেই পুলিশ ও ঘাট মালিকদের দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। মজু চৌধুরী ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ট্রলার মালিক মনির জানান, ট্রলার ঘাট করার সাথে সাথে ঘাটে থাকা দুই ব্যক্তি আলাউদ্দিন ও জসিম ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন।
 
ট্রলার মালিক আরও জানান, ঘাট মালিক স্থানীয় প্রভাবশালীদের দেওয়া হয় ৭ হাজার টাকা ও পুলিশকে দিতে হয় ৫'শত টাকা করে প্রতি ট্রিপে। আর এসব টাকা তোলেন আলাউদ্দিন ও জসিম। ঘাটে উপস্থিত সাংবাদিকদের টের পেয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ও জসিম।
 
তবে এবিষয়ে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রতন কুমার শীল জানান, পুলিশের নাম বলে টাকা নিতে পারেন। তবে পুলিশ কোন অর্থের সাথে জড়িত নেই। তাছাড়া মজু চৌধুরী ঘাট থেকে আসা যাত্রীদেরকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারছিনা। তবে ইলিশা ঘাট থেকে কোন যাত্রী মজু চৌধুরীর ঘাট বা লক্ষ্মীপুর যেতে পারছেনা।