অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৫ই মে ২০২৬ | ২২শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় বাজার থেকে আলু উধাও


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাত ১০:০৫

remove_red_eye

৩২৭

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : দাম নিয়ন্ত্রনে গত বৃহস্পতিবার সরকার আলুর দাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়ার পর থেকেই ভোলার বাজারে আলুর সরবারহ কমতে শুরু করে। গত দুই দিন সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশী দামে বাজারে আলু পাওয়া গেলেও শনিবার সকাল থেকেই ভোলার বাজারে আলুশূন্য। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোলার বিভিন্ন আড়ৎ ও খুচরা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এদিকে আলু কিনতে এসে ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে ক্রেতাদেরকে। বিক্রেতারাও আলু ছাড়াই অন্য মালামাল নিয়ে বসে আছেন দোকানে। আড়তদারদের দাবি মোকাম থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু কিনতে পারছেন না। বেশী দামে আলু কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গেলে প্রশাসন তাদেরকে জরিমানা করছেন তাই তারা আলু আনছেন না।
শনিবার দুপুরে ভোলার কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা স্কুল শিক্ষক মো. মনির হোসেন জানান, বাসা থেকে আলু কেনার জন্য বাজারে এসে দেখেন কোনো দোকানেই আলু নেই। সবশেষে আড়তে গিয়েও আলু পায়নি তিনি। তাই অন্য তরকারি কিনে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।
আলু কিনতে আসা ডা. এমএ বাছেদ জানান, আলু একটি নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপন্য। তাই এটির দাম বাড়ানো উচিত না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সবাই এটি খায়। এতো দিন দাম বেশী হলেও বাজারে পাওয়া যেতো। কিন্তু আজতে পুরো বাজারে আলু নেই। সরকারে উচিত বিষয়টি ভালোভাবে তদারকি করা।
বেসরকারি চাকরিজীবি মো. সোহাগ জানান, মানুষ আলু বেশী খায়। এটি সব সময়ই প্রয়োজন। কিন্তু সেন্ডিকেটের কারনে বাজারে আলু নেই। আলু দেশে উৎপাদন করা হয়, এটি তো বাহির দেশ থেকে আমদানি করতে হয় না। তাহলে কেনো আলুর সল্পতা থাকবে। সরকার এসকল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কটোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্কুল শিক্ষক মো. সোয়েব জানান, তিনি আলু কেনার জন্য বাজারে এসেছেন। কিন্তু কোনো দোকানেই আলু নেই। সর্বশেষ একটি দোকানে এক কেজি পরিমান আলু পেয়েছেন, তা ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনে বাড়ি যাচ্ছেন।
বাজার করতে আসা দিকচিনি রায় জানান, তারা ভোলা নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়েন। সেখানকার হোস্টেলের বাজার করতে এসেছেন। কিন্তু আলু কেনার জন্য গিয়ে দেখেন বাজারে আলু নেই। সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন কি করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। কারন হোস্টেলের প্রধান খাদ্যই হলো আলু।
ষাটোর্ধ বৃদ্ধ মো. আবু তাহের জানান, সকাল থেকেই মানুষ ভোলার বাজারে আলু পাচ্ছেন না। দোকানে দোকানে ঘুরে আলু না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলুর কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে। আর প্রশাসক শুধু খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসে জরিমানা করেন। প্রশাসনের উচিত যারা আলুর বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে তাদেরকে ধরে কঠিন শাস্তি দেয়া। তাহলে আলুর দাম এতো বাড়বে না আবার বাজারেও আলু পাওয়া যাবে।
ভোলার কাঁচা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. মনির ও ভুট্টুসহ ৮-৯জন ব্যবসায়ী জানান, আড়ৎ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে আবার কখনও তার চেয়ে দুই টাকা বেশী দিয়ে আলু কিনতে হয়। আবার এক বস্তা আলুতে দুই থেকে তিন কেজি কম হয়। এ অবস্থায় কোনোভাবেই ৩৫-৩৬ টাকা কেজি আলু বিক্রি করা যায় না। আড়ৎ থেকে আলু কেনার চালান চাইলে তারা দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু প্রশাসন এসে বেশী দামে আলু বিক্রি করলে জরিমানা করে। তাই তারা আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। আবার আড়তেও গত দুই দিন ধরে আলু নেই।

আড়তদার মো. শরীফ জানান, আলু মোকাম থেকে বেপারীরা এনে বিভিন্ন আড়তে দেয়। তাদের বেধে দেয়া দামে আড়তদারদের বিক্রি করতে হয়। কিন্তু মোকাম থেকে কোনো চালান দেয় না। তাই তারাও খুচরা বিক্রেতাদের চালান দিতে পারছেন না। মোকাম থেকে আলু এনে সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করা যাচ্ছে না বিধায় বেপারীরাও আলু আনা বন্ধ রেখেছেন। তাই বাজারে আলুর সংকট দেখা দিয়েছে।
ভোলার কাচাবাজার আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আলুর দাম বৃদ্ধিতে আড়তদারদের কোনো দোষ নেই। মোকাম থেকে আলু আনেন বেপারীরা। তারা যেই দামে এনে আড়তে দেয় তারা সেই দামে বিক্রি করেন। এখানে আড়ত মালিক কেজিতে ৬০ পয়সা কমিশন পায়। এখন মোকামে দাম বেশী হওয়ায় বেপারীরা লোকশানের ভয়ে আলু আনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবির কালের কণ্ঠকে জানান, ভোলায় ৯৮ হাজার ৯০০ মেট্রিটটন আলু উৎপাদন হয়ে থাকে। আর ভোলাতে চাহিদা রয়েছে ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রেকটন। তবে ভোলায় হিমাগার না থাকায়  আলুর মৌসুমে এগুলো সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এ জন্য ভোলার উৎপাদিত আলু নোয়াখালী ও ল²ীপুরসহ বিভিন্ন জেলার বেপারী কিনে নেয় সেখানকার হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। তাই এ মৌসুমে জেলার বাহির থেকে ভোলায় আলু আনতে হয়। তাই ভোলায় কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি হিমাগার থাকলে ভোলায় উৎপাদিত আলু দিয়ে এখানকার চাহিদা পুরণ করে জেলার বাহিরেও পাঠানো যেতো।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আরিফুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, ভোলায় স্থানীয়ভাবে আলু তেমন উৎপাদন নেই। বাহির থেকে এনে আলু বিক্রি করতে হয়। এখন কি কারনে আলুর সংকট তৈরী হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও যাতে করে কেউ গুদামজাত করে বা অন্য কোনোভাবেই যেনো কৃত্রিম সংকট তৈরী বাজারে বেশী দামে আলু বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বজার মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছেন।





সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাজাহানের আজ ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাজাহানের আজ ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী

বোরহানউদ্দিনে দ্বিতীয় দিনে স্কয়ারের ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে  চিকিৎসাসহ ঔষধ পেলো কয়েক হাজার মানুষ

বোরহানউদ্দিনে দ্বিতীয় দিনে স্কয়ারের ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে চিকিৎসাসহ ঔষধ পেলো কয়েক হাজার মানুষ

গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় ভোলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় ভোলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ভোলা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

ভোলা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

ভোলায় ‘শিক্ষা সুরক্ষা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

ভোলায় ‘শিক্ষা সুরক্ষা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় চোরাচালান চক্রের প্রধান আসামী গ্রেফতার

মনপুরায় চোরাচালান চক্রের প্রধান আসামী গ্রেফতার

ভোলায় ৪ দিন ব্যাপী স্কয়ারের ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা শুরু

ভোলায় ৪ দিন ব্যাপী স্কয়ারের ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা শুরু

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষের হাড়ভাঙা শ্রম

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষের হাড়ভাঙা শ্রম

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ভোলায় তেলের সংকটে নদীতে নামতে পারছেন না জেলেরা

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ভোলায় তেলের সংকটে নদীতে নামতে পারছেন না জেলেরা

ভোলায় বারি মুগ ডালের কৌশল শীর্ষক মাঠ দিবস পালিত

ভোলায় বারি মুগ ডালের কৌশল শীর্ষক মাঠ দিবস পালিত

আরও...