ভোলা, বুধবার, ১লা এপ্রিল ২০২০ | ১৭ই চৈত্র ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক


১৮ই মার্চ ২০২০ রাত ১১:৩৯




হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় ভোলায় তিন প্রাবাসীর অর্থদণ্ড

ভোলা জেলা

অচিন্ত্য মজুমদার   : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত দু-সপ্তাহের ব্যবধানে ভোলায় ফিরেছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন প্রবাসী। বিদেশ ফেরত এসব প্রবাসীরা করনা ঝুঁকিতে থাকায় সবাইকে ১৪ দিন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ভোলা জেলায় মাত্র ৪২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে প্রবাসীরা কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ভঙ্গ করে বাইরে ঘোরাঘুরি করায় ভোলা সদরের চরনেয়াবাদ পৌর ৪ নং ওয়ার্ডে ১ জন কে ৫ হাজার ও চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নে দুই প্রবাসীকে ১৫ হাজার টাকাসহ মোট  ৩ জনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এসব তথ্য বুধবার নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক । অপরদিকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভোলা শহরের এক যুবককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সদ্য চালু করা করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী জানান, ভোলার ৬ উপজেলায় এ পর্যন্ত ইতালি, ওমান, আবুধাবি, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, দুবাই ও ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।এদের মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ৫ জন, দৌলতখানে ১২, বোরহানউদ্দিনে ১৭ জন, তজুমদ্দিনে ৭ জন ও চরফ্যাশন উপজেলায় ১ জন রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ৪২ জনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের প্রত্যেককে আগামী ১৪ দিন বাড়ি থেকে বের না হতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ এ নির্দেশ না মানলে তাকে জেল জরিমানা করা হবে বলেও জানান তিনি।তিনি আরো জানান, করোনা মোকাবেলায় সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আলাদা আইসোলেশন ইউনিট খেলা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলা গুলোতেও একই ভাবে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলায় ৯টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যেখান থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সকল তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন (০১৭১১-১৬৯২৬৫) চালু করা হয়েছে।এসময় তিনি আরো জানান, যে সকল রোগী জ্বর, সর্দি, গলা ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালের দ্বারস্থ হবেন, তাদেরকে আলাদা স্ক্যানিং করার জন্য হাসপাতালে করোনা স্ক্যানিং সেন্টার খেলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।