অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২০ | ১৮ই আষাঢ় ১৪২৭


ভোলায় মোহনা ডায়গনস্টিক এন্ড হসপিটালে ল্যাপারোসকোপিকের মাধ্যমে সফল অপারেশন সম্পন্ন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই মার্চ ২০২০ ভোর ০৪:১০

remove_red_eye

৭০




বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা শহরের মোহনা ডায়গনস্টিক এন্ড হসপিটালে ল্যাপারোসকোপিকের মাধ্যমে সফল ভাবে  অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডাঃ সবুজ কুমার পাত্রের নেতৃত্বে এ অপারেশন সম্পন্ন হয়। স্বাভাবিক অপারেশনের চেয়ে কম খরচে এ অপারেশন সফল ভাবে হওয়ায় রুগীরাও খুশি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ভোলায় জটিল অপারেশনের রুগীরা স্বাভাবিক অপারেশনের মাধ্যমে, অনেক বেশী কাটাকটি করে, ব্যাপক রক্তপাতে এবং দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে, অনেল অর্থ ব্যায়ের মাধ্যমে যে অপারেশন হতো,  এখন তার চেয়ে কম খরচে আধুনিক পদ্ধতিতে কম খরচে মাত্র একদিন হাসপাতালে থেকে, আধা ইঞ্চি চামরা কেটে ল্যাপারেসকোপিকের (কম্পিউটারের) মাধ্যমে সফল অপারেশন হচ্ছে- ভোলা মোহনা ডায়াগনস্টিক এন্ড হসপিটালে। একসময় এ অপারেশনের জন্য ঢাকায় লক্ষাধীক টাকা ব্যায়ে রুগীদের অপেক্ষমান থাকতে হতো। ল্যাপারেসকোপিক এমন এক ধরনের অপারেশন যেখানে আধা ইঞ্চি চামড়া কেটে ভিডিও ক্যামেরা এবং অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বড় বড় অপারেশন করা হয়। পিত্তথলির পাথর অপারেশন, এপেন্ডিসাইটিস অপারেশন, ওভারিয়ান (ডিম্ভাশয়ের) টিউমার অপারেশন, বন্ধ্যাত্বের অপারেশন, জরায়ুর অপারেশন ও হার্নিয়ার ল্যাপারোসকোপিকের মাধ্যমে অপারেশন করা সম্ভব। এর আগে এ হাসপাতালে পরীক্ষা মূলক অপারেশন হলেও গতকাল ৬ জন রুগীর ল্যাপারোসকোপিকের মাধ্যমে ১ জনের এপেন্ডিসাইটিস,৪ জন পিত্তথলির পাথর ও ১ জন নারীর জরায়ুর সফল অপারেশন হয়েছে। তারা হচ্ছেন শেফালী ঘোষ, শাহানাজ আক্তার, এম এস টি রুমা, এম এসটি সাথী, মোক্তার হোসেন ও রাবেয়া বেগম। রুগীরা জানান, আমার কম খরচে এ ধরনের অপারেশন হতে পেরে খুশি। আগে এসব অপারেশনের জন্য ৭৫ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা খরচ করতে হতো, এখন আমরা এখানে ১৫/১৬ হাজার টাকায় এসব অপারেশন হয়েছি।
এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালের ল্যাপারোসকোপিক বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং মোহনা ডায়গনস্টিক এন্ড হসপিটালে ল্যাপারেসকোপিক বিভাগের প্রধান ডাঃ সবুজ কুমার পাত্র জানান, মোহনা ডায়গনস্টিক এন্ড হসপিটালে তিনিসহ স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও  ল্যাপারোসকোপিকের সার্জন  ডাঃ সাইফুর রহমান দিল্লীর ওয়াল্ড ল্যাপারোসকোপিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত।  এছাড়াও ওই হাসপাতালে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ  বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ ফয়সল ও রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, কম খরচে এ অপারেশন করার কারন হচ্ছে, ভোলার মানুষ ঢাকায় এসব অপারেশনের জন্য মাসের পর মাস, বহু টাকা খরর করে অনেক ভোগান্তির মাধ্যমে অপারেশন করতে হয়। রুগীরা যাতে আর ভোগান্তিতে না পরে, সে জন্য তাদের কে আগ্রহী করতে এবং মোহনা ডায়াগনস্টিকের সেবামূলক মনোভাবের কারনে আমরা কম খরচে এ অপারেশন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো জানান, প্রকৃত পক্ষে যারা কোন খরচ করার মতো সামর্থ নেই তাদেরকে আমরা বিনা খরচে এ অপারেশন করবো। এ অপারেশনটি ভোলা সদর হাসপালেও হয়ে থাকে। সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ রথীন্দ্র নাথ মজুমদারের একান্ত প্রচেষ্টায় এ অপারেশনের মেশিন ও ডাক্তার ভোলা সদর হাসপালে এসেছেন।
 মোহনা ডায়াগনস্টিক এন্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ রফিকুল ইসলাম ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, মোহনা ডায়াগনস্টিকের মূল উদ্দেশ্য ব্যাবসা নয়। আগে মানুষ সেবা পাবে ও সোওয়াবের কাজ হবে। পরে ব্যাবসার চিন্তা করা হবে। এখানের সকল পরিচালকেরই এমন মনোভাব। তাই আমরা কম খরচে এসব অপারেশন করতে সক্ষম হয়েছি।