ভোলা, সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ই ফাল্গুন ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক


১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৮:৩৪




ভোলায় অবুঝ তিন শিশুর বন্ধুত্ব হলো কুকুরের সাথে !

ভোলা সদর



অমিতাভ অপু :  কুকুর প্রভূভক্ত। প্রভুর বাড়ির পাহারাদার। গ্রাম বাংলায় এমন প্রভুভক্ত পাহারাদার কুকুরের জন্য কোন ব্যয় নেই। আস্তাকুড়েরর খাবার খেয়েই ( ফেলে দেয়া ভাতের মার, মাংসের হার. মাছের কাটা) এদের বেড়ে ওঠা। তবুও এরা প্রভ’র বাড়ির দায়িত্ব পালন করে। বাড়ির কুকুর আর বাজারের বেওয়ারিশ ( মালিকানা ছাড়া)  কুকুরের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। বাজারের কুকুরের নির্দিষ্ট আস্তানা নেই। কিন্তু এই সব কুকুরের সঙ্গে যখন মানুষের বন্ধুত্ব হয়। তখন তা আলোচনায় ওঠে আসে। তা যদি হয় শিশুদের সঙ্গে।  তখন এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।
এমন এক ঝাঁক কুকুরের সঙ্গে তিন শিশুর নিবিঢ় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা নিয়ে অবাক বিস্ময় প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ভোলা জেলার উপশহর বাংলাবাজার। সেখানেই দেখা যায় এমন ঘটনা। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে ছুটে যায় কুকুরগুলো। ৮ বছর বয়সী শিশু নুর হোসেন, ৫ বছরের  রহিমা বেগম, ৪ বছরের জহুরা বেগম । এরা ভাই বোন। এদের খেলার সঙ্গী ১২টি কুকুর ।  কখনও কুকুরের পিঠে চড়ে বেড়ানো। কখনও দৌঁড়ের পাল্লা ,কখনও গলা জড়িয়ে কথা বলা। কালু, ভুলু,  লালু,  সোহাগী, গোলাপী  এমন নাম ডাকতেই এক একটি কুকুর ছুটে এসে লুটিয়ে পড়ে । এ যেন পোষা কুকুর। শিশু নূর হোসেন জানায়, এক বছর আগে বাজারের একটি কুকুরের সঙ্গে প্রথম তার বন্ধুত্ব হয়। বাড়ি এলে খেতে দেয়। ডাকলে কাছে আসে। ওই থেকেই আস্তে আস্তে ১২টি কুকুরের সঙ্গে তাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে হানিফ খন্দকার (ফারুক খনকার) বাড়ি।  হানিফের সন্তান নুর হোসেন, রহিমা ও জহুরা। হানিফের বাড়িতে জিন ভুতের প্রভাব আছে , স্থানীয়দের কারো কারো এমন মন্তব্য।  তাই অলৌকিক অনেক ঘটনার মধ্যে তিন শিশু’র সঙ্গে কুকুরের বন্ধুত্ব। এমনটাও মনে করেন কেউ কেউ।  সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক বিল্লাল হোসেন ও পরিবেশ গবেষক মোঃ জাকির হোসেন জানান, শিশু বয়সের কুকুরের বাচ্চার ছুটাছুটি ও খেলা করার অভ্যাস থেকেই শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠতে পারে। জিন ভুতের প্রভাব নয়। আদর পেলে কুকুর প্রজাতি পোষ্য হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, হোটেল রেস্তরার উচ্ছৃষ্ট খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠা কুকুরগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খেলার জন্য ছুটে যায় ওই শিশুদের কাছে। কখন বাড়ির উঠুনে। কখনও স্কুল কলেজের খেলার মাঠে। এলাকার কলেজ শিক্ষক আবুল বাশার ( বশির স্যার) জানান, বেশ বড় আকারের  এক ঝাঁক কুকুরকে ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে নিবিঘেœ খেলা করতে দেখে প্রথম প্রথম ভয়ের বিষয় মনে করতেন। কখন কামড়ে দেয়। কিন্তু দেখা যায়, শিশুদের সঙ্গে নতজানু হয়ে কুকুর গুলো খেলা করছে। ওদের পিঠে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। যা অবাক হওয়ার বিষয়।  স্থানীয় মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে দায়িত্বরত ডাক্তরার জানান, পালিত কুকুর না হলে, ওই সব কুকুর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সর্তক হতে উপদেশ দেন ওই চিকিৎসক। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মাহামুদুল হক আযাদ কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দেন।