অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১৪ই মে ২০২৬ | ৩১শে বৈশাখ ১৪৩৩


চরফ্যাশনে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই একমাত্র ভরসা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১শে জানুয়ারী ২০২০ রাত ০২:৫৯

remove_red_eye

১১৪৪




এআর সোহেব চৌধুরী , চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভাসানচর ও নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আর কলমী এলাকার শতশত শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা এখন বুড়াগৌরাঙ্গ খালের সাঁকোটি। বুড়াগৌড়াঙ্গ খালে ব্রীজ না থাকায় এ দুই ইউনিয়নের চর আর কলমী ও ভাসানচর গ্রামের কয়েকশ শিক্ষার্থী প্রতিবছর শিক্ষার্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। গ্রামের পাশে প্রাথমিক ও নিম্ম মাধ্যমিক দু’টি বিদ্যালয় থাকলেও পথের মাঝে বুড়াগৌড়াঙ্গ খালে প্রায় দেড়শ ফুটের দীর্ঘ এ সাঁকো পাড়াপাড়ে  শিশুদের স্কুল বিমুখ করছে। সম্প্রতি বুড়াগৌড়াঙ্গের এই সাঁকো থেকে খালে পড়ে  মারা যায় ফরাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক দ্যিালয়ের প্রাক প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থী সুরাইয়া। ভাসানচর এবং চর আর কলমী এ দুটি গ্রাম উপজেলার দক্ষিন আইচা থানার নজরুল নগর ও শশিভূষন থানার রসুলপুর ইউনিয়নের অংশ। রসুলপুর ভাসানচর গ্রামের হাজিরহাট বাজারে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রসুলপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। খুব কাছের এ বিদ্যালয়কে চর আর কলমী ও ভাসানচরের শিশুদের কাছে দুর্গমপথ করে দিয়েছে এ বুড়াগৌড়াঙ্গ খালটি। খালটির উপর অবস্থিত র্দীঘ এ সাঁকো দিয়েই স্কুলে আসতে হয় শিশুদের। বিশাল এ সাাঁকো পাড়াপাড়ে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রসুলপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা দিন দিন স্কুল বিমুখ হয়ে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পাড়পাড়ের জন্য, প্রাথমিক ও নিম্ম মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক হাজারের মতো তবে এ সংখ্যার খুব কম শিক্ষার্থীই স্কুলে আসে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ হচ্ছে বিশাল এ খালের উপরের ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকেটি। এ সাঁকো থেকে খালে পড়েই শিশু শিক্ষার্থী সুরাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদাউস বেগম জানান,স্কুলে আসার পথে শিশু সুরাইয়া সাাঁকো থেকে খালে পড়ে মারা যাওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা খুবই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে স্কুলে আসছ্ েতবে আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা কমে গেছে। এলাকাবাসীরা বলেন, সাঁকো থেকে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা প্রায়সই ঘটছে এ অবস্থা চলতে থাকলে দুই গ্রামের শতশত শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েই বেড়ে উঠবে। রসুলপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান, তিনি ওই সাঁকোটি পরিদর্শন করেছেন, এবং বুড়াগৌড়াঙ্গ খালটির উপর একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য স্থানিয় সাংসদ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপিকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ মোশারেফ হোসেন জানান, বুড়াগৌড়াঙ্গ খালে ব্রীজ নির্মানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।