ঢাকা, বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে জানুয়ারী ২০২০ | ১০ই মাঘ ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক


৩রা জানুয়ারী ২০২০ রাত ০৯:৩০

ইসলামী আদব অনুসরণ মুমিনদের অবশ্যকর্তব্য

ধর্ম

ইসলামী আদব তথা রীতিনীতি যথাযথভাবে অবলম্বন করা মুমিনদের অবশ্যকর্তব্য। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামী রীতি অবলম্বন করে নিজেরা দোজখের আগুন থেকে বাঁচ এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে তা থেকে বাঁচাও।’ হাদিসে আছে, প্রত্যেক সন্তান ইসলামী আদর্শ গ্রহণের যোগ্যতা লাভ করে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী বানিয়ে নেয়। 

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘হে দুনিয়ার মানুষ! তোমরা ইসলামী স্বভাব গ্রহণ কর যার ওপর রেখে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেন। আল্লাহর সৃষ্টিগত এই ইসলামী স্বভাবকে তোমরা পরিবর্তন করো না। প্রকৃতপক্ষে এটাই মজবুত ও সুদৃঢ় জীবনব্যবস্থা।’ 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং উত্তম আদব শিক্ষা দিয়েছেন আর তিনিই আমাকে জ্ঞান দান করেছেন এবং উত্তম জ্ঞান দান করেছেন।’ হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি ১০ বছর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেতমত করেছি। তিনি আমাকে কখনো উহ্ শব্দটুকু বলেননি এবং এ কথাও বলেননি যে, তুমি কেন করলে বা তুমি কেন করলে না।’ 

হজরত আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দানশিন কুমারী মেয়েদের চেয়েও লাজুক ছিলেন। যখন তিনি কোনো কাজ অপছন্দ করতেন, তখন তাঁর চেহারায় আমরা সে পরিচয় পেতাম।’ বুখারি, মুসলিম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। 

তিনি বলেন, ‘আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন নামাজ কায়েমের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা দৌড়াতে দৌড়াতে নামাজের দিকে এসো না, বরং ওই সময় তোমরা সেদিকে শান্তভাবে ধীরগতিতে চলে আসবে। অতঃপর নামাজের যতটুকু পাও আদায় করবে। আর বাকিটুকু পুরা করে নেবে।’ বুখারি, মুসলিম। হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘প্রত্যেক কাজ ডান দিক থেকে সম্পন্ন করা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব পছন্দনীয় ছিল। যেমন পবিত্রতা, মাথা আঁচড়ানো ও জুতা পরিধান ইত্যাদি।’ বুখারি, মুসলিম। হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় তখন সে যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, যদি কেউ প্রথমে ভুলে যায় তখন খাওয়ার মধ্যে যখনই স্মরণ হয় সে যেন বলে আমি আল্লাহর নাম প্রথম ও শেষে উচ্চারণ করলাম।’ আবু দাউদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামী আদব তথা রীতিনীতি অবলম্বনের তৌফিক দিন।