অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৫শে মাঘ ১৪২৯


বিদ্যালয়ের খাতায় ঝরে পড়ার হার না থাকলেও কর্মমুখি হাজারো শিশু


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ই জানুয়ারী ২০২৩ রাত ০৯:০৬

remove_red_eye

২৬

এআর সোহেব চৌধুরী ,চরফ্যাশন থেকে: চরফ্যাশনের উপকূলীয় অঞ্চলে ৪২ ভাগ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন  স্তর থেকে ঝরে যাচ্ছে। বাল্য বিবাহ, ভবিষ্যৎ প্রশ্নে অষ্পষ্টতা এবং মৌসুমী শিশু শ্রম থেকে লোভনীয়  উপার্জনের সুযোগ শিশুদের শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে ঠেলে দিচ্ছে । একটি বে-সরকারী উন্নয়ণ সংস্থার অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলার আয়তন ১১০৬ বর্গ কিঃমিঃ। বিচ্ছিন্ন দীপাঞ্চল সমন্বয়ে এই উপজেলায় ২৬০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১০ টি স^তন্ত্র এবতেদায়ী, ৭০ টি সংযুক্ত এবতেদায়ী, ১৮টি কিন্ডার গার্টেন এবং
১৩৫ টি এনজিও চালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বছরের শুরুতে বিদ্যালয় গমনোপযোগী সব শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বিভিন্ন শ্রেণিতে এসে শিশুরা বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে যাচ্ছে। ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির মেয়ে শিশুদের একটা অংশ নিয়মিত ঝরে যাচ্ছে বাল্য বিবাহের কারণে।এদিকে বিদ্যালয়ে ভর্তিকতৃ শিশুর ৪২ শতাংশ পঞ্চম শ্রেনীর গন্ডি অতিক্রম করার আগেই লেখা পড়ার পর্ব চুকিয়ে জীবিকার সন্ধানে নেমে পরে। জানাগেছে বিদ্যালয়ের দূরবর্তী অবস্থান,দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা,অভিভাবকদের দারিদ্র,শিক্ষা অর্জনকে ব্যয় সাপেক্ষ মনে করা,ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অষ্পষ্টতা এবং মৌসুমী শিশু শ্রম থেকে লোভনীয় আয়ের সুযোগ, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং বাল্যবিবাহ  শিশুদের বিদ্যালয় থেকে জীবন সংগ্রামের ক্ষেত্রে টেনে নিচ্ছে।  
 শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২সালে প্রাথমিকে বালক ৯৯.৫৭% ও বালিকা ৯৯.৫৯% শিশু ভর্তির তথ্যে ৪.৩২% ঝরে পড়ার হার দেখানো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর দেয়া তথ্যমতে শতভাগ ভর্তি দেখানো হলেও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ব্যতিত ভর্তিযোগ্য কিন্তু ভর্তি হয়নি এমন শিশুর তালিকায় দেখানো হয়েছে বালক বালিকা মোট ২০৮জন। অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরতদের জানা নেই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অফিস সহকারী মোর্শেদা বলেন,ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ডকুমেন্টস বা কোনো তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, চরফ্যাশন উপজেলায় যান্ত্রিক অযান্ত্রিক ১১হাজার ট্রলার ও নৌকায় ১০-১৮বছরের নিচে প্রতিদিন অন্তত ১০হাজার শিশু নদী ও সাগরে যাচ্ছে মৎস্য শিকারের জন্য। এসব ট্রলার নৌকায় মৎস্য শিকারের কাজ করছে ৪৪হাজার ৩১১জন জেলে। এসব জেলেদের কাজে সহযোগতিার জন্য ঘরের শিশু বা শিশু শ্রমিকদের নিয়ে এসব ট্রলার ও নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী খাল ও সাগরে মৎস্য শিকারে যাচ্ছে জেলেরা। এছাড়াও সুত্রে জানা গেছে,উপজেলার ২৪টি অবৈধ ইট ভাটায় অন্তত ৬০জনের বেশি শিশুকে দিয়ে সিজনাল চুক্তিতে কাজ করাচ্ছে ভাটা মালিকরা। এছাড়াও ধানের মৌসুমে হাজারো শিশু শ্রমিক দিয়ে ধান কাটানো হয় বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান। চর কুকরি-মুকরী মাধ্যমিক বিবদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুসেন দত্ত বলেন,বিবদ্যালয়ে ববছরের শুরুতে ২৯০জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বছর শেষে ২২২জন শিক্ষার্থি পাওয়া গেছে। তিনি জানান,৬ষ্ট শ্রেণীতে ১১জন,৭ম শ্রেণীতে ২০জন,৮ম শ্রেনীতে ১৮জন,নবম শ্রেণীতে ১০জন ও ১০ম শ্রেণীতে ১০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। যার মধ্যে নবম ও ১০ম শ্রেণীর প্রায় ১৫জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে বলেও জানান এ শিক্ষক। ঢালচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম,৯ম ও ১০ম শ্রেনীর ১৫জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকারে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। তিনি জানান,ঢালচর নদী ভাঙনের কারনে চরফ্যামনের মূল ভূখন্ডে রসুলপুর ৮কপাটে একটি শাখা স্থানান্তর করা হয়েছে। ভাঙন কবলিত চরের বিদ্যালয়ে ৩০-৩৫জন শিক্ষার্থি রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন,করোনা পরবর্তী বিদ্যালয়গুলোতে ২৫% শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। বর্তমানে শহর এলাকায় ঝরে পড়ার হার কম থাকলেও চর এলাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রয়েছে। অভাবগ্রস্থ দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। চর এলাকায় অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখি করতে হবে।