অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৫শে মাঘ ১৪২৯


দেশের কৃতি সন্তান এম মতিউর রহমানের আজ  ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ই জানুয়ারী ২০২৩ রাত ০৯:৪২

remove_red_eye

৪২

আগামীকাল ৯ই জানুয়ারি দক্ষিন বঙ্গের উন্নয়নের রুপকার দেশের কৃতি সন্তান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী, সংসদ সদস্য,  সচীব ও  রাষ্ট্রদূত এম মতিউর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী । তিনি ২০১৮ সালে ৯৫ বছর বয়সে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন । মৃত্যুকালে তিনি ২ পূত্র ও ৫ কন্যা রেখে যান।
এম মতিউর রহমান ১৯২৩ সালে পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার জয়কুল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । তিনি স্কুল জীবন কাটান কাউখালিতে এবং ম্যট্রিক পাশ করে তিনি বরিশাল বি এম কলেজে  অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞ্যান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম এ ও এল এল বি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি তৎকালীন  সুপিরিয়র সার্ভিসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে  সরকারের উচ্চপদে যোগ দেন । ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারের সচীব পদে কর্মরত ছিলেন।   ১৯৭৩ সালে এম মতিউর রহমান বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে দেশ গড়ার কাজে আতœনিয়োগ  করেন এবং দেশের শিল্প ও বানিজ্যের উন্নয়নের লক্ষে বঙ্গবন্ধু এম মতিউর রহমানকে  শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচীব পদে নিয়োগ দেন। সদ্য স্বাধীন দেশ গড়ার কাজে তিনি জনাব আব্দুর রব সেরনিয়াবত, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ, এইচ,এম, কামরুজ্জামান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ আমীর হোসেন আমু এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সহ আরও অনেক জাতীয় নেতার সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। ১৯৭৬ সালে এম মতিউর রহমান বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের সচীব হিসাবে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে তিনি জাপান ও কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত  নিযুক্ত হন । ১৯৮৫ এবং ১৯৮৬ সালে এম, মতিউর রহমান অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে যোগ দিয়ে দেশের অর্থনীতির কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং দেশের ব্যাবসা, বানিজ্য এবং শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ  ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বরিশাল সদর সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম, মাতিউর রহমানকে সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান করা হয় এবং সরকারী সংগঠনের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবেও  নির্বাচিত হন।   ১৯৯৬ সালে এম, মতিউর রহমান পিরোজপুর-২ কাউখালি-ভান্ডারিয়া সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন।   ১৯৮৬ সালে এম মতিউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী নিযুক্ত হন। এম মতিউর রহমান যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই যমুনা সেতু বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।  এই সময়ে  জাতীয় মহাসড়ক সহ   আঞ্চলিক মহাসড়কেরও বৃদ্ধি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ৪১০ কিলোমিটার সড়ক তৈরী হয়। ২৯৭ কিলোমিটার রেলপথ , ১০২ টী রেল সেতু পুণনির্মাণ করা হয় ।  তার সময়েই মেঘনা সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু এবং হালদা সেতুর কাজ শুরু হয় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। এই সময়ে তিনি তার নিজ জেলা পিরোজপুর সহ সমগ্র দক্ষিন বঙ্গের ব্যপক উন্নয়ন সাধন করেন। এতে করে সমগ্র দক্ষিন বঙ্গের মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়। তিনি বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা সড়ক তৈরি সহ অত্র এলাকার নতুন নতুন রাস্তাঘাট তৈরি এবং উন্নয়ন সহ ঢাকা-মাওয়া-কাওড়াকান্দি-ভাংগা সড়ক নির্মাণ করেন। এই সড়ক নির্মাণের ফলে  বরিশালের সাথে ঢাকার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার কমে যায়। এম, মতিউর রহমান মন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই বরিশাল-ঝালকাঠি সড়কের কালিজিরা সেতুটির নির্মাণ কাজের ব্যপক অগ্রগতি সাধিত হয় এর ফলেই কালিজিরা সেতুটির কাজ দ্রæত শেষ হয়। এই সড়কটি রাজাপুর-ভান্ডারিয়া মঠবাড়িয়া হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চলের পাথরঘাটা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ছাড়াও তিনি ছত্রকান্দা হতে কাউখালি সড়ক, বরিশাল গড়িয়ার পার হতে বেকুটিয়া সড়ক, জয়কুল মসজিদ হতে বড় বিড়ালজুরী সড়ক গুলো নির্মাণ করেন।এই অঞ্চলে তিনি নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভারট, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, প্রাইমারী স্কুল, হাই স্কুল, কলেজ, কারিগরী কলেজ স্থাপন সহ ব্যপক উন্নয়ন করেন । তিনি তার কর্মজীবনে থাকাকালীন সময়েই বরিশালে বি আই ডবিøউ টি এ’র ওয়ার্কশপ এবং ফ্লোটি ডকইয়ার্ড স্থাপন করেন । ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট হিসাবে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি জয়কুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়কুল আদর্শ মাধ্যমিক  বিদ্যালয় এবং কারিগরী স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কাউখালী ডিগ্রি কলেজ (বর্তমান সরকারী কলেজ) এরও প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি আইরন জয়কুল হাই স্কুলেরও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি প্রস্তাবিত জয়কুল আবাসন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, এতিমখানা, শিশু সদন এবং ফোরকানিয়া মাদ্রাসারও প্রতিষ্ঠাতা ।  দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি অত্র এলাকার অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সব সময়েই সচেষ্ট ছিলেন। এম, মতিউর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী । প্রেস বিজ্ঞপ্তি