অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৮শে নভেম্বর ২০২২ | ১৪ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯


প্রেম করায় জুতোপেটা রাতে মিললো লাশ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২শে নভেম্বর ২০২২ রাত ০৯:৫২

remove_red_eye

১০৬

ইব্রাহিম আকতার আকাশ: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মেয়ের সঙ্গে প্রেম করায় মেয়ের প্রেমিককে ডেকে নিয়ে জুতোপেটা ও মারধর করেছেন প্রেমিকার বাবা। এ ঘটনার দুই ঘন্টা পর বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে গলায় ফাঁস দেয়া প্রেমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর প্রেমিকাসহ তাদের পুরো পরিবার আত্মগোপনে রয়েছেন।

সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার চরফ্যাশন উপজেলা দক্ষিণ আইচা থানা এলাকার চর মানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ চর আইচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ আইচা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেসার উদ্দিন ইয়ামিনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত প্রেমিক ইয়ামিন (১৬) ওই গ্রামের মৃত রবিউল্লাহ মাঝির ছোট ছেলে এবং স্থানীয় চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। প্রেমিকা লাবনীও একই গ্রামের মো. কামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রেমিক ইয়ামিন ও প্রেমিকা লাবনী একই বাড়ির বাসিন্দা।

নিহত ইয়ামিনের মামা মো. হাছান আলীর অভিযোগ লাবনীর সঙ্গে ইয়ামিনের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। ইয়ামিনের চাচাতো ভাই রাকিবের সঙ্গে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রেমিকা লাবনীর বাবা কামাল হোসেন রাকিবের মাধ্যমে ঘর থেকে ইয়ামিনকে বাড়ির বেড়িবাঁধের উপর ডেকে নেয়। এরপর রাকিব ও কামাল ইয়ামিনকে জুতোপেটা ও মারধর করে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। রাত ৮টার দিকে বাড়ির এক মহিলা দেখতে পান গলায় রশি পেঁচানো ইয়ামিনের লাশ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলে আছে। এবং ইয়ামিনের পা গাছ থেকে প্রায় মাটি ছুঁইছুঁই অবস্থায় ছিল। এরপর তাঁরা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনার পর রাকিব, লাবনী ও লাবনীর বাবা কামালসহ তাদের ঘরের সকলে আত্মগোপনে রয়েছেন।

দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার মো. হারুনের ভাষ্য, ইয়ামিনের সঙ্গে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লাবনীর বাবা কামাল হোসেন তাদের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়ামিনের চাচাতো ভাই রাকিবের মাধ্যমে কামাল ইয়ামিনকে বাড়ির সামনের বেড়িবাঁধের উপর ডেকে নিয়ে জুতোপেটা ও মারধর করে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারধরে বেড়িবাঁধের উপর শুয়ে পড়েন ইয়ামিন। এ ঘটনার ঘন্টাখানেক পর বাড়ির পাশের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়।

দক্ষিণ আইচা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেসার উদ্দিনের ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়ামিনের লাশ তাদের (ইয়ামিনের) ঘরে দেখতে পান। তাঁর গলায় দাগ রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, লাবনীর সঙ্গে ইয়ামিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইয়ামিনের পরিবারও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আপাতত দক্ষিণ আইচা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানা যাবে।