অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৬ই জুলাই ২০২৬ | ২২শে আষাঢ় ১৪৩৩


বোরহানউদ্দিনে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬শে জুলাই ২০২২ রাত ১০:২৫

remove_red_eye

৩৫৮



বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :  ভোলার বোরাহনউদ্দিন উপজেলায় মিতু বেগম নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দিয়েছে। এ অবস্থায় অভিযুক্ত আসামীদের দ্রæত গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মিতু বেগমের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ সকল অভিযোগ করেন মিতুর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিতুর বাবা বশির মীর জানান,  বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতবা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের মো. বশির মিয়ার ছেলে মো. জুয়েলের সাথে গত প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর মেয়ে মিতু বেগমের বিয়ে হয় । তাদের সংসারে ৭বছর বয়সের জুয়েনা আক্তার নামে একজন কন্যা সন্তান ও আড়াই বছর বয়সের জুনাইদ নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। জুয়েল পেশায় একজন অটোরিকশারচালক।  গত ২১জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে মিতু স্বামী জুয়েলকে  তার শ্বশুর একটি চৌকি কেনার জন্য তিন হাজার টাকা দিলে সে বাজার থেকে একটি চৌকি কিনে এনে বাড়ির উঠানে রেখে চলে যায়। পরে বাসায় ফিরে চৌকি উঠানে দেখে মিতুর সাথে ঝগড়া করে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জুয়েল মিতুকে লাকরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিতুর বোন সীমাকে ফোন করে বলে মিতু মারা গেছে। পরে সীমা এসে দেখে মিতুকে একটি খাটের ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। তাদেরকে মৃত্যুর কারন জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলে, মিতু আত্মহত্যা করেছে। এসময় মিতুর শরীরে বিভিন্ন যায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরে মিতুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বললে তাঁর স্বামীসহ শ^শুর বাড়ির লোকজন ঘর থেকে সরে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মিতুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মিতুর বাবা আরো জানান, মিতুর লাশ থানায় নেয়ার পর তারাও পুলিশের সাথে থানায় যায়। পুলিশের কাছে মিতুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বললে, পুলিশ তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে  স্বাক্ষর নিয়ে বলে, আমরা মামলা লিখে নিব। পরবর্তীতে মিতুর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের পর থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে কোর্টে মামলা করতে বলেন। পরে তারা সোমবার (২৫জুলাই) কোর্টে গিয়ে জুয়েলসহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক হয়নি।
বশির মীর অভিযোগ করে বলেন, মিতুর স্বামী জুয়েলের আপন ভাই মো. রিয়াজ ওরফে রুবেল বোরাহনউদ্দিন থানায় বাবুর্চির কাজ করেন। তাই পুলিশ প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছে করে তাদের মামলা না নিয়ে আত্মহত্যা মামলা নিয়েছে। তাই তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন।
বোরাহানউদ্দিন থানার ওসি শাহীন ফকির জানান, ঘটনার দিন মিতুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা প্রমানিত হলে হত্যা মামলা নেয়া হবে। এতে যদি ভিকটিমের পরিবার মামলা নাও করে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করবে। তিনি আরো জানান, লাশ উদ্ধারের সময় প্রাথমিক সুরতহালে তাঁর গলায় ফাঁস দেয়ার চিহ্নসহ আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ভিকটিমের পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ দিতে রাজি হয়নি। এছাড়াও ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমানিত হলে কোনো ভাবেই এটা এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও জানান এ কর্মকর্তা। পুলিশ প্রভাবিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মিতুর মামা মো. হারুনুর রশিদ, মোস্তফা মুন্সি, খালাতো ভাই আসাদুল্লাহ, মেয়ে জুয়েনা আক্তার,