অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২২শে মে ২০২২ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


ভিডিও দেখলেই দ্বিগুণ লাভ!


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯শে এপ্রিল ২০২২ ভোর ০৫:০০

remove_red_eye

৪৭

১০ লাখ টাকা দিলে লভ্যাংশ হিসেবে দুই মাস অন্তর ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা একটি লিংকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে দেওয়া হবে’- এমন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ কোটি হাতিয়ে নেয় একটি অনলাইনভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি।

অবশেষে সেই কোম্পানির (ভিশন ২০২৫ ডিজিটাল আইটি ওয়ার্ল্ড লি.) পরিচালক নাজমুল ইসলামকে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এসময় বিপুল পরিমাণ বুকলেট, গ্রাহকের বিকাশ লেনদেনের হিসাব, লিফলেট, চেকবই ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

 

সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস রাইজিংবিডিকে বলেন, সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ী থেকে নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব জানায়, সে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখায়। তারা বলে, ১০ লাখ টাকা দিলে লভ্যাংশ হিসেবে দুই মাস অন্তর ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা একটি লিংকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে দেবে বলে। 

চক্রটি একটি অনলাইন সাইট খুলে সেখানে আইডি খোলার জন্য গ্রাহকদের বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেয়। এমএলএম ব্যবসার নিয়মে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের গ্রাহক বানালে কমিশন পাওয়া যাবে এবং তাদের কিছু গ্রোসারি পণ‌্য বিক্রয় করে দিলে কোম্পানি থেকে কমিশন পাবে বলে লোভ দেখায়।

 

বর্তমানে তাদের লক্ষাধিক রেজিস্টার্ড গ্রাহক এবং প্রায় ১১ হাজার অ‌্যাকটিভ মেম্বার রয়েছে। গ্রাহকরা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কোম্পানির সদস্য হতে পারে। বর্তমানে গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা তাদের কাছ আটকে আছে। 

তাদের এই ভুয়া কোম্পানির অফিস গত বছরের এপ্রিল মাসে মৌচাকে খোলা হয়। কিন্তু অক্টোবর মাসে স্থায়ীভাবে অফিস বন্ধ করে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তালবাহানা করতে থাকে। 
এমনকি তারা গ্রাহকদের পাওনা টাকা দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এবং বাড়াবাড়ি করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও জীবননাশের হুমকি দেয়। এভাবে তারা ১১ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।