অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২২শে মে ২০২২ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


তারাবির ফজিলত ও রাকাত-সংখ্যা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ই এপ্রিল ২০২২ বিকাল ০৩:৪৯

remove_red_eye

৪৭

পবিত্র রমজান মাসের রাতে ইশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নাতের পর এবং বিতির নামাজের আগে দুই রাকাত দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে তারাবি নামাজ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’, অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। ইসলামের পরিভাষায় মাহে রমজানে তারাবি নামাজ পড়ার সময় প্রতি চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’।

রমজান মাসের নির্দিষ্ট নামাজ হচ্ছে সালাতুত তারাবিহ। তারাবির নামাজ রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কুরআনুল কারিম একবার খতম করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও পড়ার জন্য নির্দেশ করেছেন।
তারাবি নামাজ নারী-পুরুষ সবার জন্যই সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, যা পরিত্যাগ করার সুযোগ নেই। এ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা বেশি সওয়াবের কাজ। তবে ঘরেও আদায় করা যেতে পারে। তারাবি নামাজ অবশ্যই ইশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাজ অধিকাংশ সময় রাতের শেষাংশে আদায় করতেন এবং প্রথমাংশে আরাম করতেন। 

তারাবি নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করেন, তাঁর অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)। তিনি আরও বলতেন, ‘যে রমজানের রাতে ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম)

 

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন, এরপর বিতির নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ রাকাত তারাবি নামাজের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতের সময়। এর ওপর খোলাফায়ে রাশেদিন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন, সালফে সালেহিন সবাই ঐকমত্যে আমল করেছেন এবং চার মাজহাবের ইমামরাও এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

 

হজরত সাইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেন, ‘খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে রমজানে মুসলমানরা ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি)। ইমাম নববী (রহ.) এ বর্ণনাকে সহি বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আল খুলাসাতুল আহকাম)। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন, ‘হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) রমজানে সাহাবায়ে কিরামের জামাতে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতরের নামাজে ইমামতি করতেন।’ (মজমুয়ায়ে ফাতাওয়া)

হজরত উমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর শাসনামলে ২০ রাকাত তারাবিই পড়া হতো। তাদের নিরবচ্ছিন্ন আমল ও ইজমার আলোকেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ। এ আমলই পুরো পৃথিবীতে এখনও চালু রয়েছে।

তারাবি নামাজে এক খতম কুরআনুল কারিম পাঠ করা কিংবা শোনা অনেক সওয়াবের কাজ। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজাগুলো ফরজ করেছেন এবং এর রাতে তারাবি নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’ 

 

রমজানের এক মাস রাতে তারাবি নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হন। দীর্ঘ একটি মাস তাঁদের পরস্পরের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার ফলে নামাজিদের মধ্যে সম্প্রীতি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম