অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২২ | ৫ই মাঘ ১৪২৮


ভোলার শিবপুরে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টা পাল্টি হামলা সংঘর্ষ ভাংচুর : আহত ৩০


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১শে ডিসেম্বর ২০২১ রাত ০২:৪৪

remove_red_eye

৫৮



 বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ১২ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায়  আওয়ামী লীগ  সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন ও সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম রাকিবের সমর্থকের  মধ্যে হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার নির্বাচনী অফিস ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় রতনপুর ও শান্তিরহাট বাজারে  ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাল্টা পাল্টি অভিযোগ করেছেন দুই প্রার্থী।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় সদর উপজেলার শিবপুরের  ৫ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ানম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন ও সতন্ত্র (বিদ্রোহী) সিরাজুল ইসলাম রাকিবের কয়েকজন সমথর্কেরর  মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ২ পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয় উভয় গ্রুপের অন্তত ৩০ জনকে। এদের মধ্যে গুরুতর ১২ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হচ্ছেন, মো. বেলায়েত হোসেন,  মো. জামাল, মো. রাকিব, খায়রুল ইসলাম তুহিন, মো. জাবেদ, মো. আজাদ। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিরাজুল ইসলাম রাকিবের আহত কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হচ্ছে, মো. ফারুক, মো. হাসান, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. নাহিদ, মো. জামাল।
এদিকে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে রতনপুর বাজারে নৌকা প্রতিকের ৩টি নির্বাচনী অফিস সহ দুই প্রার্থীর ৪টি নির্বাচনী অফিস ও সতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের ঘর ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর উত্তেজিত সমর্থকরা ২ ভাগে অবস্থান নেয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, ৬ নং ওয়ার্ডে ওঠান বৈঠক চলাকালে খবর পান তার ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে এবং  পিটিয়ে ও কুপিয়ে ১০/১২ জন কর্মীকে আহত করেছে। বিএনপি জামায়াতের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ হামলা চালিয়েছে। তার লোকজনকে লক্ষ করে বোমা ও গুলি বর্ষণ করে। বিভিন্ন বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। আহতদের উদ্ধারে এম্বুলেন্স পর্যন্ত যেতে পারছে না। শান্তির হাট বেড়ির পার এলাকার কয়েকজন আহত অবস্থায় রয়েছে। তিনি সুষ্ঠ নির্বাচন কামনা করেন প্রশাসনের কাছে।
অপরদিকে সতন্ত্র (বিদ্রোহী) সিরাজুল ইসলাম রাকিব পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন ইভিএম ভোটের নিয়ম দেখানোর সময় নৌকার সমর্থকরা গুলি করে হামলা চালায়। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার সময় এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করেছে। তার ১৪/১৫ জন আহত হয়েছে। নির্বাচনী আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর কথা তিনি অস্বীকার করছেন।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ২ দুই গ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের চেস্টা করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুই পক্ষ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে ছিল তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি এ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ইউনিয়নে মোট ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকলে প্রতিদ্বিন্দ্বতা হবে জসিম উদ্দিন  ও সিরাজুল ইসলামের মধ্যে।