অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই জুলাই ২০২১ ভোর ০৪:৪৮

remove_red_eye

৪০

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : আসন্ন ঈদ-উল-আজহার আগে অনেকটাই শিথিল হয়ে যাচ্ছে বিধিনিষেধ। আগামী ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে সব ধরনের গণপরিবহন। একই সঙ্গে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলবে দোকানপাট-শপিংমল। এসব শর্ত দিয়ে বিধিনিষেধ শিথিল করে আজ-কালের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শিথিল করে নতুন বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের ১২তম দিনে রাজধানীতে যানজট পরিলক্ষিত হয়েছে। গণপরিবহন ছাড়া চলছে সবধরনের যানবাহন। করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা উর্ধগামী অব্যাহত থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি অনেকক্ষেত্রেই উপেক্ষিত।

 

বিগত ঈদে লকডাউন এবং বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও ঢাকা ছাড়তে মানুষের জন¯্রােত দেখা যায়। ফেরি বন্ধ থাকলেও মানুষ ফেরিঘাটে ভিড় জমায়। জরুরী প্রয়োজনে ফেরি ছাড়তে গেলে মুহূর্তে তাতে লোকজন উঠে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গাড়ি বাদ দিয়ে শুধু মানুষ পার করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি মোটা তার বেয়ে ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে। ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। এছাড়া রাস্তায় কোথাও ট্রাক, কোথাও পিকআপে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরতে দেখ যায়। তখন দাবি উঠেছিল এর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চলাচলের সুযোগ দিলে এই পরিস্থিতি হতো না। এসব কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার ঈদের আগে লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, শিথিল সময়ে সরকারী অফিস ভার্চুয়ালি চলবে। ঈদ-উল-আজহা উদযাপনে সুবিধার জন্য সরকার বিধিনিষেধ শিথিলের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হবে। এরপর ২৩ জুলাই সকাল থেকে আবারও কঠোর বিধিনিষেধ দেয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত পহেলা জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ ছিল ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। পরে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও সাতদিন অর্থাৎ ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২১টি শর্ত দেয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, এ সময়ে জরুরী সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারী-বেসরকারী অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল- দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্পকারখানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না এই সময়ে।

এদিকে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ছাড়া রাজধানী ঢাকার সড়কে প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত পরিবহন ও জনসাধারণের বাইরে বের না হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ চেকপোস্ট দিয়ে বাধাহীন গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। সড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় কোথাও কোথাও যানজটও দেখা যায়। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যালে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়েছে যানবাহনকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

লকডাউন শেষ কাল ॥ সরকার ঘোষিত দুই সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউন শেষ হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। ঘোষিত লকডাউন শেষ হতে এখনও আরও দুদিন বাকি থাকলেও রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে। রাজধানীতে প্রবেশের তিনটি পয়েন্ট গাবতলী, আমিনবাজার, উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ও সায়েদবাদে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। তারা ছিলেন ঢাকা থেকে বের হওয়া ও প্রবেশের অপেক্ষায়। এছাড়া সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কে গত কয়েকদিনের তুলনায় অধিক সংখ্যক রিক্সা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান ও প্যাডেলচালিত রিক্সাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকের মুখেই দেখা যায়নি মাস্ক।