অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭ই আশ্বিন ১৪২৮


ভোলায় হঠাৎ করে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ঠা জুলাই ২০২১ রাত ০৯:৪৪

remove_red_eye

১৫৪





বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক  : চলতি বর্ষার মৌসুমে ভোলায় হঠাৎ করে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৫০/৬০ জন শিশু। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রতিদিন অধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় এক বেড়ে দুই শিশু গাদাগারি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কোন কোন বেডে তিনজনই চিকিৎসা নিচ্ছেন।  রবিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ভোলা সদর হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দৌলতখান পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা শিশুর অভিভাবক খাদিজা বেগম জানান,  তার ৬ মাস বয়সী শিশুর গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা সমস্যার কারণে শ^াস কষ্ট হলে গতকাল শনিবার সকালে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের নার্সরা স্যালাইন ও ইনজেকশন দিয়েছে। এখন আগের চেয়ে একটু ভালো অনুভব করছেন বাচ্চা।
বোরহানউদ্দিন পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা শিশুর অভিভাবক মিঞ্জু বেগম জানান, আমার আড়াই মাস বয়সী ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। আমি গতকাল শনিবার বিকেলে ভোলা সদর হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করেছি। ভর্তির পর থেকে নার্সরা চিকিৎসা দিলেও আজ রবিবার দুপুর ১ বাজে এখন পর্যন্ত হাসপাতালের ডাক্তার এসে আমার ছেলেকে দেখেনি।
ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া থেকে আসা অভিভাবক নাজমা বেগম জানান, তার তিন মাসের শিশুর ঠান্ডা, জ¦র ও কার্শি হয়েছে। তিনি তার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। প্রতিদিন সকালে ডাক্তার এসে দেখে যান। আর সব সময় নার্সরাই চিকিৎসা দেন। এখন পর্যন্ত তার শিশুর রোগ ভালো হয়নি।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় এক বেডে অন্য এক শিশু রোগীর সাথে আমার শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। এক বেডে দুইজন থাকায় অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কি করবো তাই বাধ্য হয়ে কষ্ট করে শিশুকে চিকিৎসা দিচ্ছিন।
সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে থেকে আসা শিশু রোগীর অভিভাবক মোঃ রুবেল জানান, আমার দুই বছরের শিশুর ঠান্ডার সমস্যা হলে গত দুই দিন আগে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় শিশু ওয়ার্ডে বেড পাইনি তাই এক বেডে তিন শিশু এক সাথে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল মাজেদ শাকিল জানান, আমার এখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রতিদিন অধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় বেডের সংঙ্কট রয়েছে। হাসপাতালের ডাক্তার সংঙ্কটের পাশাপাশি নার্স, স্টাফও সংঙ্কট রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা দেতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি তারপাও আমরা অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
ভোলা সদর হাসপাতালের আর.এম.ও ডাঃ নিরুপম সরকার সোহাগ জানান, চলতি বর্ষার মৌসুমের কারণে শিশুকের ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। সদর হাসপাতালে ১০টি শিশু বেড থাকলেও  প্রতিদিন হাসপাতালে ৫০/৬০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত ৫১ জন ভর্তি হয়েছে। এতে বেডের সংঙ্কট থাকায় এক বেডে দুই রোগী চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালে স্যালাইন ও ঔষুধের কোন সংঙ্কট নেই। তবে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ সংঙ্কট রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকির দ্রæত এ সমস্যা সমাধান হবে।
ভোলা সদর হসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ৪ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ভোলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিয়ে ২২৩ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১ জুলাই ৫৩ জন, ২ জুলাই ৬৩ জন, ৩ জুলাই ৫৬ জন ও আজ ৪ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ৫১ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন।