অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


মনপুরায় নৌকা প্রতীকের সমর্থন করায় সমর্থককে মারধর


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২শে জুন ২০২১ রাত ১০:৫২

remove_red_eye

৫১

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলা ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন ও ভোট দেওয়ায় স্কুল শিক্ষককে মারধর করেছে প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীকের সমর্থকরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নাইরের হাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুল শিক্ষক মিলন চন্দ্র বিশ্বাস চিকিৎসা নিয়ে হামলাকারীদের আতঙ্কে বাসায় রয়েছেন। আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অনুষ্ঠিত মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দ্বিপক চৌধুরীকে সমর্থন করে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন মনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক স্কুল মিলন চন্দ্র বিশ্বাস। নৌকার প্রতীকের সমর্থন করায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের সমর্থকরা বিজয়ের পর মিলন চন্দ্র বিশ্বাসের উপর ক্ষিপ্ত হয়। মিলন চন্দ্র হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায় আসলে আনারস প্রতীকের সমর্থক ইউসুফ হাওলাদার, মফিজ মিয়ার নেতৃত্বে মিলনের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। মিলনের আত্মচিৎকারে লোকজন এসে ঝড়ো হলে হামলাকারী ইউসুফ, মফিজ বাহিনী চলে যায়। মিলনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে হাজিরহাট ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা ভয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। আহত মিলন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমি একজন স্কুল শিক্ষক। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আমি শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দ্বিপক চৌধুরীকে সমর্থন করে নির্বাচন করেছি এবং নৌকায় ভোট দিয়েছি। এই কারণে আনারস প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের সমর্থকরা আমাকে বাজারে পেয়ে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। হাজির হাট ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি মেম্বার প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে হয়েছে। কোন ধরনের মারামারি ঘটনা ঘটে নি। এখানে নৌকা সমর্থন কিংবা আনারস প্রতীকের সমর্থনের কোন বিষয় নয়। বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। মনপুরা থানার ওসি মো. সাঈদ আহমেদ জানায়, এই ঘটনায় আমাদের কাছে কোন লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ দিলে প্রমান মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মনপুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিনা চৌধুরী বলেন, এটি একটি দু:খ জনক ঘটনা। আওয়ামীলীগ করার কারণে একজন বয়স্ক লোককে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই। তদন্ত করে এই ঘটনায় জড়িতদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।