অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: গৃহকর্তা ৫ দিনের রিমান্ডে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০শে জুন ২০২১ রাত ০৮:৫২

remove_red_eye

৫৫০

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ এক নারীকে হত্যার ঘটনায় ওই নারীর স্বামী হিফজুর রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গোয়াইনঘাট আমলি আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার সিলেট ওসমানী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান হিফজুর। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের ধারণা, হিফজুরই তার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করেছেন। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমানকে শনিবার গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গত বুধবার সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বসত ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (১০) এবং তানিশার (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় একই ঘর থেকে হিফুজরকে রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর থেকে হিফজুর পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিলো পুলিশ।

এদিকে খুন হওয়ার সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন আলিমা বেগম। এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এর আগে শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, নিহত আলিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলো সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তীর আহত হিফজুরের দিকেই।

পুলিশ আরও সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও হিফজুরের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে ওইদিন এ বাড়িতে কোনো বহিরাগত লোক প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানের অসুস্থতা নিয়ে টানাপোড়েনের জেরেই হিফজুর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।