অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


দৌলতখানে ধর্ষণের বিচার হলো এক লাখ টাকা ও ধর্ষকের সাথে বিয়ে


দৌলতখান প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ই জুন ২০২১ রাত ১২:১০

remove_red_eye

১৫৮

ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

 দৌলতখান প্রতিনিধি : ভোলার দৌলতখানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই ছাত্রীর পিত্রালয়ে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভিকটিম পরিবারের দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে প্রভাবশালী মহল। ঘটনা দফারফায় শুক্রবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল ও সাবেক ইউপি সদস্য হাসানের উপস্থিতিতে হাসান মেম্বারের বসতঘরে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে ধর্ষকের সহযোগীর এক লাখ টাকা জরিমানা ও একশ বেত্রাঘাত এবং ধর্ষকের সাথে মেয়েটির বিয়ে দেয়ার রায় দেয়া হয়। সালিশের দেয়া এ সিদ্ধান্ত ধর্ষকের পরিবার মেনে নিলেও রোববার সরেজমিন ধর্ষক রাজিব ও তার সহযোগী মিরাজকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা হলেন, ওই ওয়ার্ডের দফতরি বাড়ির নাছির উদ্দিনের ছেলে ধর্ষক রাজিব ওরফে রাজু ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারী সাদু মালের জামাতা মিরাজ। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল জানান, অভিযুক্ত ও ভিকটিমের পরিবারের সম্মতিক্রমে সালিশ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রী জানান, জীবিকার তাগিদে দরিদ্র বাবা কয়েক দিন আগে সাগরে মাছ ধরতে যান। আমাকেসহ ৬ ও ৮ বছরের তিন বোনকে বসতঘরে রেখে মা নানার বাড়িতে যান। ঘটনার সময় বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে ছোট বোনদের ঘুম পাড়িয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ১ টার দিকে মিরাজ ও রাজিব ওরফে রাজু বাইরে থেকে পেছনের দরজা খুলে ঘরে ঢুকে লাইট বন্ধ করে দেয়। আমি টের পেয়ে মোবাইলের টর্চের আলো জ¦ালালে তাদেরকে চিনতে পারি। এ সময় রাজিব আমাকে জাপটে ধরে মুখ ও হাত চেপে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ডাক চিৎকার দিলে তারা দ্রæত পালিয়ে যায়। ওই ইউপির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজুর আলম বলেন, আমি যতদুর জেনেছি ঘটনা সত্য। আমার ইউনিয়নে এ ধরণের ঘটনা এটিই প্রথম। ধর্ষণ ঘটনা মিমাংসায় সালিশের কোন সুযোগ নেই।  দৌলতখান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান বলেন, এ ব্যাপারে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।