অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


মনপুরায় সোলার বিদ্যুৎ স্থানীয়দের গলার কাঁটা


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২১ রাত ১০:৪২

remove_red_eye

১৫৭



জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ  সরবরাহের দাবীতে আন্দোলনের ডাক ছাত্র-জনতার


আবদুল্লাহ জুয়েল, মেহেদি হাসান নাহিদ ,মনপুরা থেকে : সূর্যের আলোয় উৎপাদিত হয় সোলার বিদ্যুৎ। প্রথমে সোলার মিনি গ্রীড স্থাপনে বিনিয়োগ করা হলেও কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে খরচ নেই বললে চলে। সেই বিনে খরচে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ৩০ টাকা নিচ্ছে সোলার মিনি গ্রীড বিদ্যুৎ কোম্পানী। এমনকি প্রিপেইড মিটারে মাসিক চার্জও কেটে নিচ্ছে ৭০ টাকা।

এভাবে ভোলার বিচ্ছিন্ন দূর্গম উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত মনপুরা সোলার মিনিগ্রীড ৭শত গ্রাহক, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত ওয়ের্স্টান রিনিউএবল এনার্জি লিঃ মিনিগ্রীড ৮ শত গ্রাহক ও ১ নং মনপুরা ইউনিয়নে স্থাপিত একই কোম্পানীর ওয়ের্স্টান রিনিউএবল এনার্জি লিঃ ৯ শত গ্রাহকেন কাছ থেকে বেশি দামে সোলার বিদ্যুৎ বিল কেটে নিচ্ছে। এতো বেশি দামে সোলার বিদ্যুৎ ক্রয় করে সংসার চালাতে ও বিদ্যুতের আলো জ্বালাতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে উপকূলের খেটো খাওয়া মানুষগুলোর। যেনো মনপুরা উপকূলে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সোলার বিদ্যুৎ।

এদিকে মুজিববর্ষে সোলার মিনিগ্রীড বিদ্যুতের পরিবর্তে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীড থেকে মনপুরায় শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে ছাত্র-জনতা। গত কয়েকদিন ধরে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে লেখালেখি করেছে ছাত্ররা। এর মধ্যে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুতের দাবীতে আন্দোলনে করণীয় নির্ধারন করতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষ করে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন ছাত্র-জনতা।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানান দিতে ৩ জুন বৃহস্পতিবার মনপুরা প্রেসক্লাবের সামনে সর্বস্তরের মানববন্ধন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মানববন্ধন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক এ.এফ.এম রিয়াদ।

আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করা সৌর বিদ্যুতের উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের গ্রাহক সোলেমান, গফুর, জসিম, সাহাবুদ্দিন, লিটন, শামসুদ্দিন, মনপুরা ইউনিয়নের গ্রাহক রফিক ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের গ্রাহক করিম জানান, সোলার বিদ্যুৎ ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা নেয়, এছাড়াও মাসিক মিটার চার্জ ৭০ টাকা দিতে হয়। এতে দুই বাতি ও একটি ফ্যান চালিয়ে কোন মাসে এক হাজার টাকা ও কোন মাসে ৮ শত টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হয়। এতো বেশি দামে বিদ্যুত বিল দিতে গিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। আমরা সরকারের কাছে জাতীয় গ্রীডের মাধ্যমে বিদ্যুত দেওয়ার দাবী করছি।

এই ব্যাপারে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত মনপুরা সোলার মিনি গ্রীডের দায়িত্বে থাকা সহকারী ম্যানেজার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, সোলার মিনিগ্রীড থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম ৩০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য খরচসহ মাসিক চার্জ ৭০ টাকা। বিদ্যুতের দাম কমানো নিয়ে তিনি বলতে পারছেনা। একই কথা বলেন ওয়ের্স্টান রিনিউএবল এনার্জি লিঃ সোলার মিনিগ্রীডে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম মিঞা জানান, ৩০ টাকা প্রতি ইউনিটি এর দাম সবচেয়ে বেশী। এতো দামে বিদ্যুৎ চালানো খুব কঠিন। জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুতের দাবীতে মানববন্ধন হবে শুনেছি। সরকারী দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।