অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২১ | ৪ঠা বৈশাখ ১৪২৮


ভোলা হাসপাতালে মৃত বাচ্চা প্রসবের সময় মাথা ছিড়ে ফেলে নার্স ,প্রসূতিকে মারধর


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে মার্চ ২০২১ রাত ০৯:৪১

remove_red_eye

৫৯৪





বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা সদর হাসপাতালের ২ কর্মচারীর খাম খেয়ালীর জন্য জীবন- মরন সংকটে পড়েছেন এক প্রসুতি মা। কোন বিশেষজ্ঞ ছাড়া গর্ভবর্তী মায়ের পেট থেকে মৃত সন্তান বের করার সময় মাথা ছিড়ে ফেলে। পেটের মধ্যেই রয়েছে শরীরের বাকী অংশ। ব্যাথায় ডাক-চিৎকার করায় মারধর করা হয় প্রসূতি মাকেই। শনিবার রাতের এ ঘটনার প্রায় ১৪ ঘন্টা পর অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে শরীরের বাকী অংশ বের করা হলেও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই মা। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  
হাসপাতাল ও রোগীর স্বজনরা জানিয়েছে, সদর উপজেলার পশ্চিম চরকালি গ্রামের কৃষক মো. জুয়েলের ৬ মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রী রহিমা বেগমের গর্ভেই একদিন আগে সন্তানের মৃত্যু হয়। ওই প্রসুতি মাকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুর রহমানের পরামর্শে শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। রাত ১১ টায় হাসপাতালের নার্স দেবী ও আয়া কহিনুর মিলে মৃত বাচ্চা ডেলিভারির সময় মাথা ছিড়ে ফেলে। এসময় ব্যথায় মা ডাক- চিৎকার করায় তাকে মারধর করা হয়। পেটে মৃত বাচ্চার শরীরর একাংশ নিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ( রোববার) দুপুর ১টায় অপারেশনের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।  সেবার পরিবর্তে রোগীকে মারধরের ঘটনার বিচার চেয়েছেন স্বজনরা। আর সিনিয়র স্টাফ নার্স জেবুননেছা জানান, নরমাল ডেলিভারীর চেস্টার সময় মাথা ছিড়ে যায়। এতে নার্স বা কর্মচারীদের কোন দোষ ছিল না। রোগীকে মারধরের কথাও তিনি অস্বীকার করেন।
আর রোগীর সুচিকিৎসা চলছে উল্লেখ করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ জানান, ডেলিভারীর চেষ্টাকালে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ডেলিভারীটি সম্পন্ন না হওয়ায় রবিবার অপারেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারো ভুল ত্রæটি থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
রহিমা বেগমের এটি দ্বিতীয় সন্তান ছিল। এর আগে তার চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।