অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা জুলাই ২০২০ | ২০শে আষাঢ় ১৪২৭


ভোলায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ রাত ০৮:৪২

remove_red_eye

৭৩

আকতারুল ইসলাম আকাশ : অধিক লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে ভোলার কৃষি প্রধান জনপদ ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উঁচু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় কৃষক পরিবারগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। শুধু নিজেদের চাহিদাই নয়, বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। শীতের শুরুতে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন জাতের সবজি পাঠাবে এই এলাকার কৃষকরা।

বিশেষ করে সীম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুনের জন্য জুড়ি নেই এখন ভোলার উপকূলীয় উঁচু জমিগুলোতে।

পশ্চিম ইলিশা এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক সেলিম হোসেন (৪৫) বলেন, এখানকার সবজির কদর ঢাকা-বরিশাল সর্বত্রই রয়েছে।

তবে তা আগাম চাষ করতে পারলে আরও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে এখন কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। সবজি ক্ষেতে পোকামাকড় আক্রমণ করবেই। সেজন্য কীটনাশক ব্যবহার না করেই আধুনিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব। এই এলাকায় সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার অনেকটাই কম থাকায় সবজি গুণগত মানে সেরা হওয়ায় চাহিদাও অনেক বেশি বলে জানান কৃষকরা।

পাঙ্গাশিয়া গ্রামে শীতকালীন সবজির বাজার ধরতে তারা ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা রোপণ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম তিনি বলেন, কার্তিক মাসের শেষ দিকে আমাদের সবজি বাজারে উঠবে। এজন্য নার্সারি থেকে সবজি চারা সংগ্রহ করে ২ থেকে ১ মাস আগে রোপণ করেছেন। সাড়ে তিন একর জমিতে প্রায় ৩৫-৩৮ হাজার কপির চারা রোপণ করা হবে।

প্রতিটি চারার পেছনে তাদের খরচ হবে প্রায় পাঁচ থেকে সাত টাকা। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি কপি ক্ষেতেই বিক্রি হবে ১৫ থেকে ২০ টাকা মূল্যে। কপি ক্ষেত থেকে মাত্র তিন মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন ওই দুই কৃষক।

ভোলার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ভোলা সদর উপজেলায় প্রায় ১০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। চলতি বছর ১২০০ শ’ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কৃষকরা যে ফসলে মুনাফা পায়, সেটাতেই ঝুঁকে পড়েন। শুধু এ উপজেলায় নয়, সারা দেশে সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই কৃষকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। চাষিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে বলেও জানান তিনি।