অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২১ | ৪ঠা বৈশাখ ১৪২৮


ভোলা ও চরফ্যাসন পৌর নির্বাচনে ভোটের উৎসব


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ রাত ১০:৪২

remove_red_eye

৭৭

 ভোট পড়েছে ভোলায় ৫২ চরফ্যাসনে ৫৪  শতাংশ
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক \ ভোলা ও চরফ্যাসন পৌরসভার নির্বাচন রবিবার সকাল থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই ভোলা পৌরসভার প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু ইভিএম পদ্ধিতিতে ভোলায় প্রথম ভোট হওয়ায় একটি ভোট দিতে সময় বেশী লাগে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে নানা কারনে ৫ জনকে আটক ও ২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করার অপরাধে লুবাই নামের একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা পৌর ১ নং ওয়ার্ডের নজরুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগে থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ভোট কেন্দ্রে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে ভোট দেয়ার জন্য। কেন্দ্র থাকা পুলিং এজেন্ট ও ভোটাররা জানান,ভোলায় এই প্রথম নতুন প্রযুক্তির এই ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণ হওয়ায় ভোটাররা এর সাথে অভ্যস্ত না। তাই ভোট দিতে শুরুর দিকে বিলম্ব হয়। এদিকে কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটার উপস্থিতি ছিলো ছোখে পড়ার মতো কম। ভোলা ৩নং ওয়ার্ডের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের এই কেন্দ্র প্রায় ভোটার শূন্য। ওই কেন্দ্রের ১নং বুথে ৩২১ জন ভোটারের মধ্যে বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র ৪৯টি ভোট কাষ্ট হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ,বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্ট দেখো যায়। বিএনপির নেতাসহ একাধিক সাধারন মানুষ বলেন,ভোলায় এ ধরনের কঠোর নির্বাচন ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। তারা এ ধরনের নির্বাচন দেখে প্রশাসনকে ধণ্যবাদ জানান। তবে ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর চরনোয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নমস্কুল) কেন্দ্রে বিশৃংখলা দেখা যায়। এছাড়া কোথায়ও কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা জানান, এবার তারা পছন্দের প্রার্থীদের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পেরে তারা খুশি।
এদিকে ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আল মামুন জানান, ভোলা পৌর পৌর সভায় ৫২ পাসেন্ট ও চরফ্যাসন পৌর সভায় ৫৪ পাসেন্ট ভোট কাষ্ট হয়েছে। অপরদিকে সন্ধ্যার পর পৌর ১ নং ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া মাধ্যামিক বিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফেরন করা হয়। এতে করে ওই এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
 অপরদিকে ভোলার চরফ্যাশন পৌর সভায়ও শান্তিপূর্ন ভাবে কঠোর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ভোটারদের  নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী  হুমায়ুন কবীর  ভোট বর্জন করেছে।  রবিবার দুপুরে  চরফ্যাশন পৌর সভার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন। এসময় তিনি  অভিযোগ করে বলেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারছেনা। আওয়ামীলীগের এজেন্টরা ভোটাররা ইচ্ছে মতো ভোট দিতে বাধ্য করছেন।  এদিকে নির্বাচনী এলাকায় ৫ স্তরের আইনশৃংখলা রক্ষকারী বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।  এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন করে ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছে।
 ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নির্বাচন শান্তিপূর্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি ভোটারদের সাথে কথা বলেছি তারা সকলে স্বস্তি প্রকাশ করেছে তার আমাদের প্রশাসনের ও পুলিশের ডিপ্লোমেনপ্ল্যান এবং যেভাবে ভোট গ্রহন হচ্ছে তারা সকলেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।