অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬ | ২১শে আশ্বিন ১৪৩৩


দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উপকূলে বিপন্ন পরিযায়ী পাখির দল


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ৩০শে ডিসেম্বর ২০২০ রাত ১০:৩৯

remove_red_eye

৭৩৭

অচিন্ত্য মজুমদার: শীত এলেই প্রতিবছর ভোলার চরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি (অতিথি পাখি) এসে জড়ো হতে শুরু করে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয় নি। নভেম্বরের মাঝা মাঝি থেকে জেলার বিভিন্ন চরবিরল অংশে অতিথি পাখিরা এসে জড়ো হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক বিপন্ন পাখি। তারা ছুটে আসে নির্দিষ্ট খাবারের সন্ধানে। ভোলার চরাঞ্চলেই তাদের আহার রয়েছে। শীত মৌসুমে এরা ছয়মাস ভোলায় অবস্থান করে। বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে ভোলা একটি। তাই বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


২০২০ সালে ঢাকা থেকে ভোলায় জলপাখি গণনা করতে আসা বন্যপ্রাণী গবেষক ও পাখি পর্যবেক্ষক সামিউল মেহেসনিন জানান, ১৯টি কাদা চর পর্যবেক্ষণ করে এবছর সর্বমোট ৬২ প্রজাতির ৪০ হাজার ৫১টি পাখির দেখা মিলেছে ভোলার উপক‚লে। যার মধ্যে ১৫ প্রজাতির ১৫ হাজার ৩২৭টি হাঁস ও ৩১ প্রজাতির ১২ হাজার ৬৫৭টি সৈকতপাখি রয়েছে। এছাড়া মহা বিপন্ন পাখি চামুচঠুঁটো বাটানের সন্ধান মিলেছে ৩টি, বিপন্ন পাখি নর্ডম্যান সবুজপা ১টি, সংকটাপন্ন পাখি দেশি গাঙচষা ১১০টি, বড় নথ ১৮টি। প্রায় সংকটাপন্ন পাখি কালালেজ জৌরালির সন্ধান মিলেছে ৩ হাজার ১৮৪টি, দাগিলেজ জৌরালির ৮টি,এশীয় ডউচার ৩টি, ইউরেশিয়ান গুলিন্দা ২৫৭টি, নদীয়া পানচিল ১২টি, কালামাথা কাস্তেচড়া ৭৭৫টি, মরচেরং ভুতিহাস ১টি।

শীত এলেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হয় ভোলার চরাঞ্চলে। আর প্রতি বছর এসব পাখির মাঝে এসে ভিড় করে পৃথিবীর “মহাবিপন্ন” কিছু পাখি। যার দেখা মেলেনা বিশ্বের কোথাও। এমনটাই জানালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন পাখি পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক। এসব বিরল পাখির মধ্যে রয়েছে ছোট মদনটাক, নর্ডম্যান সবুজপা, কালামাথা কাস্তেচড়া, কালালেজ জৌরালি, ইউরেশিয়ান গুলিন্দা। বিশেষ করে চামুচঠুঁটো বাটান দেশি গাঙচষা, ঝিনুকমার, মরচেরং ভুতিহাস, নদীয়া পানচিল ও বড় মোটাহাটু জাতের অতি বিরল পাখির সন্ধান মিলেছে ভোলার চরাঞ্চলে। বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাখির বিচরণ ক্ষেত্রগুলো মানুষের দখলমুক্ত করতে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পাখি পর্যবেক্ষকরা।
এসময় ইনাম আল হক আরো বলেন, বিশ্বের “মহাবিপন্ন” পাখি চামচঠুঁট-বাটান এবং সংকটাপন্ন পাখি দেশি গাঙচষা, বড় নট ও বড়গুটি ঈগল ছাড়াও অনেক প্রজাতির হাঁস ও সৈকতপাখি শীতে ভোলার চরগুলিতে এসে বসবাস করে। প্রতিটি পাখির আহার অন্য পাখির থেকে ভিন্ন। তাই যে পাখির আহার যেখানে থাকে সেখানেই তারা আসে। তিনি বলেন, যে প্রজাতির পাখিগুলো ভোলার চরাঞ্চলে আসে বুঝতে হবে এর আহার এখানেই আছে। পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ফলে তাকে এখানেই আসতে হবে। এখানকার কাদা চরে ওই আহার না থাকলে সে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমন পাখির মধ্যে চামুচঠুঁটো বাটান অন্যতম। এটি পৃথিবীর মহাবিপন্ন একটি পাখি। মিয়ানমারের মার্টবান চর এবং ভোলার চর শাহাজালাল ও দমারচর ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এর খাবার নেই। তাই শীত মৌসুমে এরা ছয়মাস ভোলায় অবস্থান করে। বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে ভোলা একটি। তাই বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


চামুচঠুঁটো বাটান পাখি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জলপাখি গণনা দলে থাকা বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পর্যবেক্ষক অনু তারেক জানান, প্রতিবছরই পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখির মধ্যে চামুচঠুঁটো বাটান’র দেখা মিলছে ভোলার চরাঞ্চলে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে মহাবিপন্ন এ পাখিটি যে কোন সময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পরে। তারা ধারনা করছেন বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১০০ জোড়া  চামুচঠুঁটো বাটান পাখি অবশিষ্ট রয়েছে। এরা শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। আবার প্রজননের জন্য জুলাই-আগোস্ট মাসে এরা নিজ ভূমে ফিরে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও গত একযুগে এই পাখিটির অস্তিত্ব মিলেনি। স্বভাবত কারণেই চামুচঠুঁটো বাটান পাখিটি অন্য পাখির ঝাঁকের মধ্যে থাকে। ভিজা বালি ও কাদার উপরের স্তর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। ভোলার দমার চর ও চর শাহাজালালে এ পাখিটির বিচরণ রয়েছে বলে জানন অনু তারেক।


কথা হয় পাখি-পর্যবেক্ষক ও পর্বত আরোহী এম.এ মুহিতের সাথে। তিনি ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর ভোলায় পাখি শুমারি করে আসছেন। তিনি জানান, ভোলার চরগুলোতে ৪ ধরনের বিরল পাখির দেখা মিলে। এগুলো হলো মহাবিপন্ন, বিপন্ন, প্রায় বিপন্ন ও  সংকটাপন্ন। বলা হয় যে দেশে যত বেশি পাখি আসে সে দেশের প্রকৃতি তত নির্ভেজাল। যেহেতু পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখিরা তাদের আসার স্থল হিসেবে ভোলার এসব চরাঞ্চলগুলো বেছে নিয়েছে। সেহেতু দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য সরকারের উচিৎ এসব যায়গাগুলোকে সংরক্ষ করা। বিশেষ করে এসব চরে মানুষ যাতে অবাধে বিচরণ করতে না পারে। এসময় তিনি বলেন, আইন করে পাখিদের রক্ষা করা যাবেনা। এজন্য মানুষ কে সচেতন করতে হবে। অনেকে জানেও না যে পাখি মারা অপরাধ। তাই আমরা পাখি রক্ষায় বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষ কে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি।





শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত : ডা. জুবাইদা রহমান

শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত : ডা. জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন,  গেজেট প্রকাশ

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব : এলজিআরডি মন্ত্রী

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব : এলজিআরডি মন্ত্রী

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জিতলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জিতলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘাত, আহত-৫

মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘাত, আহত-৫

ভালোবাসার এক অদ্ভুত রসায়ন মান্নান স্যার

ভালোবাসার এক অদ্ভুত রসায়ন মান্নান স্যার

লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্সের সভা

লালমোহনে মা ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্সের সভা

লালমোহনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

লালমোহনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আরও...