অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই ২০২৬ | ২৩শে আষাঢ় ১৪৩৩


দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উপকূলে বিপন্ন পরিযায়ী পাখির দল


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ৩০শে ডিসেম্বর ২০২০ রাত ১০:৩৯

remove_red_eye

৭১৩

অচিন্ত্য মজুমদার: শীত এলেই প্রতিবছর ভোলার চরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি (অতিথি পাখি) এসে জড়ো হতে শুরু করে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয় নি। নভেম্বরের মাঝা মাঝি থেকে জেলার বিভিন্ন চরবিরল অংশে অতিথি পাখিরা এসে জড়ো হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক বিপন্ন পাখি। তারা ছুটে আসে নির্দিষ্ট খাবারের সন্ধানে। ভোলার চরাঞ্চলেই তাদের আহার রয়েছে। শীত মৌসুমে এরা ছয়মাস ভোলায় অবস্থান করে। বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে ভোলা একটি। তাই বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


২০২০ সালে ঢাকা থেকে ভোলায় জলপাখি গণনা করতে আসা বন্যপ্রাণী গবেষক ও পাখি পর্যবেক্ষক সামিউল মেহেসনিন জানান, ১৯টি কাদা চর পর্যবেক্ষণ করে এবছর সর্বমোট ৬২ প্রজাতির ৪০ হাজার ৫১টি পাখির দেখা মিলেছে ভোলার উপক‚লে। যার মধ্যে ১৫ প্রজাতির ১৫ হাজার ৩২৭টি হাঁস ও ৩১ প্রজাতির ১২ হাজার ৬৫৭টি সৈকতপাখি রয়েছে। এছাড়া মহা বিপন্ন পাখি চামুচঠুঁটো বাটানের সন্ধান মিলেছে ৩টি, বিপন্ন পাখি নর্ডম্যান সবুজপা ১টি, সংকটাপন্ন পাখি দেশি গাঙচষা ১১০টি, বড় নথ ১৮টি। প্রায় সংকটাপন্ন পাখি কালালেজ জৌরালির সন্ধান মিলেছে ৩ হাজার ১৮৪টি, দাগিলেজ জৌরালির ৮টি,এশীয় ডউচার ৩টি, ইউরেশিয়ান গুলিন্দা ২৫৭টি, নদীয়া পানচিল ১২টি, কালামাথা কাস্তেচড়া ৭৭৫টি, মরচেরং ভুতিহাস ১টি।

শীত এলেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হয় ভোলার চরাঞ্চলে। আর প্রতি বছর এসব পাখির মাঝে এসে ভিড় করে পৃথিবীর “মহাবিপন্ন” কিছু পাখি। যার দেখা মেলেনা বিশ্বের কোথাও। এমনটাই জানালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন পাখি পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক। এসব বিরল পাখির মধ্যে রয়েছে ছোট মদনটাক, নর্ডম্যান সবুজপা, কালামাথা কাস্তেচড়া, কালালেজ জৌরালি, ইউরেশিয়ান গুলিন্দা। বিশেষ করে চামুচঠুঁটো বাটান দেশি গাঙচষা, ঝিনুকমার, মরচেরং ভুতিহাস, নদীয়া পানচিল ও বড় মোটাহাটু জাতের অতি বিরল পাখির সন্ধান মিলেছে ভোলার চরাঞ্চলে। বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাখির বিচরণ ক্ষেত্রগুলো মানুষের দখলমুক্ত করতে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পাখি পর্যবেক্ষকরা।
এসময় ইনাম আল হক আরো বলেন, বিশ্বের “মহাবিপন্ন” পাখি চামচঠুঁট-বাটান এবং সংকটাপন্ন পাখি দেশি গাঙচষা, বড় নট ও বড়গুটি ঈগল ছাড়াও অনেক প্রজাতির হাঁস ও সৈকতপাখি শীতে ভোলার চরগুলিতে এসে বসবাস করে। প্রতিটি পাখির আহার অন্য পাখির থেকে ভিন্ন। তাই যে পাখির আহার যেখানে থাকে সেখানেই তারা আসে। তিনি বলেন, যে প্রজাতির পাখিগুলো ভোলার চরাঞ্চলে আসে বুঝতে হবে এর আহার এখানেই আছে। পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ফলে তাকে এখানেই আসতে হবে। এখানকার কাদা চরে ওই আহার না থাকলে সে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমন পাখির মধ্যে চামুচঠুঁটো বাটান অন্যতম। এটি পৃথিবীর মহাবিপন্ন একটি পাখি। মিয়ানমারের মার্টবান চর এবং ভোলার চর শাহাজালাল ও দমারচর ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এর খাবার নেই। তাই শীত মৌসুমে এরা ছয়মাস ভোলায় অবস্থান করে। বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে ভোলা একটি। তাই বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


চামুচঠুঁটো বাটান পাখি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জলপাখি গণনা দলে থাকা বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পর্যবেক্ষক অনু তারেক জানান, প্রতিবছরই পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখির মধ্যে চামুচঠুঁটো বাটান’র দেখা মিলছে ভোলার চরাঞ্চলে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে মহাবিপন্ন এ পাখিটি যে কোন সময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পরে। তারা ধারনা করছেন বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১০০ জোড়া  চামুচঠুঁটো বাটান পাখি অবশিষ্ট রয়েছে। এরা শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। আবার প্রজননের জন্য জুলাই-আগোস্ট মাসে এরা নিজ ভূমে ফিরে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও গত একযুগে এই পাখিটির অস্তিত্ব মিলেনি। স্বভাবত কারণেই চামুচঠুঁটো বাটান পাখিটি অন্য পাখির ঝাঁকের মধ্যে থাকে। ভিজা বালি ও কাদার উপরের স্তর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। ভোলার দমার চর ও চর শাহাজালালে এ পাখিটির বিচরণ রয়েছে বলে জানন অনু তারেক।


কথা হয় পাখি-পর্যবেক্ষক ও পর্বত আরোহী এম.এ মুহিতের সাথে। তিনি ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর ভোলায় পাখি শুমারি করে আসছেন। তিনি জানান, ভোলার চরগুলোতে ৪ ধরনের বিরল পাখির দেখা মিলে। এগুলো হলো মহাবিপন্ন, বিপন্ন, প্রায় বিপন্ন ও  সংকটাপন্ন। বলা হয় যে দেশে যত বেশি পাখি আসে সে দেশের প্রকৃতি তত নির্ভেজাল। যেহেতু পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখিরা তাদের আসার স্থল হিসেবে ভোলার এসব চরাঞ্চলগুলো বেছে নিয়েছে। সেহেতু দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য সরকারের উচিৎ এসব যায়গাগুলোকে সংরক্ষ করা। বিশেষ করে এসব চরে মানুষ যাতে অবাধে বিচরণ করতে না পারে। এসময় তিনি বলেন, আইন করে পাখিদের রক্ষা করা যাবেনা। এজন্য মানুষ কে সচেতন করতে হবে। অনেকে জানেও না যে পাখি মারা অপরাধ। তাই আমরা পাখি রক্ষায় বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষ কে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি।





ভোলায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ভোলায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ  শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত নতুন নেতৃত্বে আবদুল হালিম

ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত নতুন নেতৃত্বে আবদুল হালিম

বোরহানউদ্দিনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমন উল্টে চালক নিহত

বোরহানউদ্দিনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমন উল্টে চালক নিহত

চরফ্যাশনে জমি নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ীর শতাধিক গাছ কর্তন

চরফ্যাশনে জমি নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ীর শতাধিক গাছ কর্তন

তজুমদ্দিনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

তজুমদ্দিনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

মনপুরায় অন্ধ প্রতিবন্ধী  স্বামী তিন সন্তান নিয়ে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরে বসবাস সাহারা খাতুনের দরকার সবার আর্থিক সহযোগিতা

মনপুরায় অন্ধ প্রতিবন্ধী স্বামী তিন সন্তান নিয়ে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরে বসবাস সাহারা খাতুনের দরকার সবার আর্থিক সহযোগিতা

লালমোহনে মোমবাতি জ্বালিয়ে চলছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা

লালমোহনে মোমবাতি জ্বালিয়ে চলছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা

খামেনির জানাজার দিনও গাজা-লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১০

খামেনির জানাজার দিনও গাজা-লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১০

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অক্টোবরে ভোটের আয়োজন চলছে: ইসি

ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অক্টোবরে ভোটের আয়োজন চলছে: ইসি

আরও...