মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল : বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভাজন ও বিভ্রান্তি পরিহার করে সংগঠনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায়ের আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার কনফারেন্স অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা সদর উপজেলা শাখার সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ভোলা সদর উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, বরিশাল অঞ্চল সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম। পশ্চিম ধনিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শামছুল আলম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলা শাখার সভাপতি ও বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহাম্মদ উল্লাহ আনছারী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জমিয়াতের সাবেক সভাপতি ও করিমজান মহিলা কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল খালেক, জেলা জমিয়াতের সহসভাপতি ও লালমোহন ইসলামি কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মোশাররফ হোসেন এবং জেলা জমিয়াতের সহসভাপতি ও দিদারুল্লাহ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস ছামাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন মাদরাসা শিক্ষা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, বেতন কাঠামোর উন্নয়ন, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা, ফাজিল-কামিল ডিগ্রির মর্যাদা, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন অর্জনের পেছনে সংগঠনের আন্দোলনের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় হয়েছে। বর্তমানেও মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিতে না গিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘বিক্ষিপ্তভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, সব মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে।’ একই শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তারা এ বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।
ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা নানাবিধ সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো এখনো জাতীয়করণের বাইরে রয়েছে। দ্রুত ইবতেদায়ী মাদরাসার নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা এবং সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী কর্মসূচি প্রয়োজন। শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বার্থে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জমিয়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মোঃ হোসেন, মাওলানা মোঃ আইউব আলী, আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ ফয়জুল আলম, মাওলানা মোঃ ইউসুফ, মাওলানা মোঃ আবুল কালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপার, শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। চাকরি জাতীয়করণের দাবি আদায়ে জমিয়াতুল মোদাররেছীনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সম্মেলনে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের ভোলা জেলা যুগ্ম সম্পাদক ও ভোলা সদর উপজেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ এবং দক্ষিণ জামিরালতা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা মোঃ শাহজাহানসহ মৃত্যুবরণকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
মোঃ ইয়ামিন