অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫শে ভাদ্র ১৪৩৩


মনপুরায় ঘাস বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলায় আদালতে জামিন


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০:০৫

remove_red_eye

৮৩

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ  ইউনিয়ন কলাতলীতে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে ঘাস বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। মামলার পর ৩১ আগস্ট মনপুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ওই তিন সাংবাদিকের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—আরটিভির মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি সোহাগ মাহমুদ সৈকত, দৈনিক সকালের সময়ের মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান এবং দৈনিক দেশের কণ্ঠের মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানকে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট মনপুরা থানায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন যুবদল নেতা মো. আলাউদ্দিন। মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট কলাতলী ইউনিয়নের একটি এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ওই জমিতে জন্মানো ঘাস স্থানীয় মহিষ পালকদের কাছে বিক্রি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান ওই তিন সাংবাদিক।
পরে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সাংবাদিকদের দাবি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করাই তাদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
এর আগে ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে হামলার অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর তিন সাংবাদিক আইনজীবীর মাধ্যমে মনপুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ৩১ আগস্ট আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের পর সাংবাদিকরা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হলে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, কলাতলীর ঘটনায় তারা ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেই সংবাদ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
তবে মামলার বাদী যুবদল নেতা মো. আলাউদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলায় যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।