অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ২৩শে জুলাই ২০২৬ | ৭ই শ্রাবণ ১৪৩৩


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপির কবর রচিত হবে: সারজিস আলম


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২শে জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৩

remove_red_eye

৫২

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে আগামীর বাংলাদেশে বিএনপির কবর রচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, এখানে জামায়াতের এমপি থাকলেও টেন্ডার হতে না হতে সরকারি প্রতিটি অফিসে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অত্যাচারে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমতো অফিস করতে পারেন না। সেখানে আবার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেকে সরকারি কর্মচারীর চেয়ে বিএনপির লোক হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন। তারা তাদের সঙ্গে মিলে টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অনিয়ম প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, মনে রাখবেন, জুলুম যদি শুরু হয় আর তার বিরুদ্ধে যদি প্রতিবাদ না করেন, কথা না বলেন, টেনে না ধরেন, সেটা এমন একপর্যায়ে যাবে, সেখান থেকে আর ফিরে আসার উপায় থাকবে না। আমরা সালাহউদ্দিন আহমদকে মনে করতে চাই যে, তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করতে চাই, তিনি জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। আমরা আরও মনে করতে চাই, তারেক রহমানকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছিল। আমরা মনে করতে চাই, তিনিও ১৭ বছর জুলুমের শিকার হয়েছেন।

সারজিস আলম বলেন, যে মানুষ ৫০ শতাংশ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে, সে মানুষ ৭০ শতাংশ ভোট দিয়েছে গণভোটের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে ও সংস্কারের পক্ষে। যে আদেশের ফলে বিএনপি নির্বাচিত সরকার হয়েছে, যে আদেশের ফলে গণভোট হয়েছে সেটি না কি অবৈধ। আমরা সালাহউদ্দিন আহমদ ও তারেক রহমানকে শুধু একটা কথা বলতে চাই- এক মায়ের যদি দুই যমজ সন্তান হয়, এক সন্তান বৈধ ও আরেক সন্তান অবৈধ হতে পারে না। যদি সংস্কার অবৈধ হয়, জুলাই সনদ অসাংবিধানিক হয়, তাহলে সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী) ও বিএনপি সরকার সবকিছু অবৈধ। আপনারা যদি গণভোট বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে আগামীর বাংলাদেশে এই বিএনপির কবর রচিত হবে।

সারজিস আলম আরও বলেন, বিএনপি সরকার কিছুদিন আগে আট হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্প নিয়েছে শুধু বিএনপির এমপিদের জন্য। এখন বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রশ্ন- বিএনপি যে বর্তমানে সরকারে আছে তারা কি শুধু ধানের শীষের সরকার, যেখানে শুধু বিএনপি জিতেছে সেখানের সরকার? না কি তারা বাংলাদেশের সরকার এবং ৩০০ আসনের সরকার, এই উত্তরটা তাদের দিতে হবে।

এনসিপির এ নেতা বলেন, বিএনপি সরকারকে বলতে চাই- আমাদের এই সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্বের প্রতীক, শক্তির প্রতীক, ঐতিহ্যের প্রতীক। সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলের অন্য নেতারা। জলঢাকায় পথসভা শেষে তারা নীলফামারী জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভায় অংশ নেন।