অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই ২০২৬ | ৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩


দৌলতখানে জোয়ারে ভেসে গেছে দুই শতাধিক গবাদিপশু


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:০৮

remove_red_eye

৪৪

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : উজানের পানি বৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে ভোলার দৌলতখানে প্রায় দুই শতাধিক মহিষ ও গবাদিপশু ভেসে গেছে। একই সঙ্গে ডুবে গেছে খামারিদের গোয়ালঘর, বসতঘর এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ভেসে যাওয়া মহিষগুলোর কোনো সন্ধান পাননি মালিকরা। একদিকে মহিষ হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে নদী ডাকাতের ভয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে খামারিদের।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতের অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝের চর বৈরাগী, মেদুয়া, মদনপুর, চর হাজারী ও হাজীপুরসহ কয়েকটি চরাঞ্চল থেকে মহিষগুলো ভেসে যায়।
মহিষের মালিকদের মধ্যে রয়েছেন দৌলতখান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল, আবুল বশির মেম্বার, হাজি আকবর, ইসমাইল, মোশাররফ মেম্বারসহ আরও অনেকে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাকির হোসেন বাবুল।
খামারিরা জানান, ভেসে যাওয়া মহিষগুলোর খোঁজে বিভিন্ন চর এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১৭ জুলাই রাতে অস্বাভাবিক জোয়ারে রাখালদের কিল্লা (উঁচু আশ্রয়স্থল) পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মহিষের বাতান থেকে প্রায় দুই শতাধিক মহিষ স্রোতের পানিতে ভেসে অন্যত্র চলে যায়।
খামারিদের দাবি, মহিষ ছাড়াও গোয়ালঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ওষুধ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খামারি জাকির হোসেন বাবুল বলেন, মহিষগুলো দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে উজানের পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতখান উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতরে মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন তারা। রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিন বেলা খাবার রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেননি। স্থানীয় বাসিন্দা ছাদেক, আশরাফুল, মাইন উদ্দিন, আবুল কাশেমসহ অনেকে বলেন, দিনমজুরির কাজ করলে খাবার জোটে, না হলে উপোস থাকতে হয়। অনেক পরিবার রাতে শুধু চিড়া-মুড়ি খেয়ে দিন পার করছে, কেউবা শুকনো রুটি খেয়ে বেঁচে আছে। অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।