অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ় ১৪৩৩


বুধবার পদার্থবিজ্ঞানসহ ৫ বিষয়ের পরীক্ষা, পড়ার টেবিলে নেই পরীক্ষার্থীরা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:৫৭

remove_red_eye

৪৮

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের প্রতিবাদে দিনভর আন্দোলন করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায় শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে নামার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ঢাকাসহ অনেক স্থানে এখনো শিক্ষার্থীরা ঘরেই ফিরতে পারেননি। বসতে পারেননি পড়ার টেবিলেও। অথচ রাত পোহালেই পদার্থবিজ্ঞানসহ পাঁচটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সময়সূচি অনুযায়ী- আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (চট্টগ্রাম বাদে) এদিন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে ৫৯ জেলায় আলিম পরীক্ষা হবে। আলিমে বুধবার আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৫৯ জেলায় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারছেন না পরীক্ষার্থীরা

পরীক্ষা স্থগিতের দাবিকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা এবং শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে— এমন প্রত্যাশায় অনেক পরীক্ষার্থীই শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারছেন না।

তারা বলছেন, পরীক্ষার আগের দিনগুলো সাধারণত রিভাইস ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন পড়ার টেবিলে বসে তাদের বারবার নজর রাখতে হচ্ছে আন্দোলনের কর্মসূচি, শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সরকারের ঘোষণার দিকে। ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ায় মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরীক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একজন পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না আগামীকালের পরীক্ষা হবে কি না। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ায় পুরোপুরি মনোযোগও দিতে পারছি না। আজ সারাদিন যা ঘটেছে, তারপর মন্ত্রী সরি বলেছেন। এখন তাদের উচিত আজকের পরিস্থিতির কারণে হলেও বুধবার পরীক্ষা স্থগিত করা।

পরীক্ষা স্থগিত নয়: ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে সমান নীতি অনুসরণ করে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। তাদের ভাষ্য, পড়ার সময় নষ্ট করার জন্য নয়, বরং সবার জন্য সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।

এদিকে দিনভর আন্দোলনের পরও মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত আগামীকাল বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলমান থাকবে।

অধ্যাপক আক্তারুজ্জামন বলেন, ‘আপাতত আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি যে অবস্থায় আছে, তাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি ও সবার মতামত নিয়ে পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’