অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ় ১৪৩৩


বন্যার সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা জানা গেল


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:১৮

remove_red_eye

৪৮

অবশেষে টানা বৃষ্টির পর স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কমতে শুরু করেছে বিপৎসীমা অতিক্রম করা নদ-নদীর পানি। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে পরবর্তী দুই দিন তা আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বেশিরভাগ নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে চারটি নদীর পাঁচটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এর মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী, সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর রয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও পশ্চিমবঙ্গের উজান অঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এর মধ্যেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী একদিন পানির প্রবাহ স্থিতিশীল থাকতে পারে, এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কয়েকটি নদীর পানি কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যাদুকাটা, ভুগাই-কংস ও সারিগোয়াইন নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। 

তবে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিনে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। 

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন হ্রাস পেতে পারে। 

ফলে আগামী ২৪ ঘন্টা নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

অপরদিকে রংপুর জেলায় তিস্তা নদী কাউনিয়া স্টেশনে সাময়িকভাবে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে এবং গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।