অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর ২০২০ | ১৫ই কার্তিক ১৪২৭


ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুনীকে ধর্ষনের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩রা অক্টোবর ২০২০ রাত ১০:২৯

remove_red_eye

৮৬




বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :   ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের কুঞ্জেরহাট এলাকার মাস্টার বাড়ির লম্পট যুবক অলক চন্দ্র(২৮) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও  বিয়ের প্রলোভনে এক তরুনীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তরুরীর মা বাদি হয়ে দুইজনকে আসামী করে শনিবার মামলা করেছে। পুলিশ মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে।


মামলার এজাহারে বাদি লিখেছেন, তার মেয়েকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত তপন চন্দ্র দের ছেলে অলক চন্দ্র দে (২৮) উত্তোক্ত করতো। এক সময় বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। ২০২০ সালে এসএসসি পাশ করার পরে মেয়েকে একাধিকবার পরিবারের অজান্তে ঘুরতে নিয়ে যায়। মেয়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। বিষয়টি যখন জানাজানি হয়, তখন ছেলের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে অলকের পরিবার ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। নইলে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে বলে।


বাদি আরও লিখেছেন, উপায়ন্তর না দেখে মেয়ের অসহায় পরিবার মেয়ের মতামত নিয়েই অন্যত্র বিয়ে দেন। কিন্তু মেয়ে শশুর বাড়িতে যেতে না যেতে অলক পুনরায় মোবাইল ফোনে মেসেজ করে শশুর বাড়ি থেকে ফিরে আসতে বলে। ফিরে আসলেই তাদের বিয়ে হবে এ রকম কথা দেয়। কিন্তু মেয়ে ফিরে আসলেও অলক তাঁকে গ্রহণ করে না। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সে বিষ পান করে। পরে তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার পরে মেয়ের পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়।


ধর্ষিতা মেয়ের ভাষ্য, অলক প্রত্যেকবার তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষন করেছে। বিয়ের আশ্বাস দিয়েছে। তার ঘর করার জন্যই স্বামীর বাড়ি থেকে স্টাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে ফিরে এসেছে। কিন্তু অলক বিয়ে করেনি। সে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে।  


স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় হিন্দুসম্প্রদায়  মেয়েটিকে বিযয়ের জন্য অলককে চাপ প্রয়োগ করলে এবং মেয়েটির পরিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলে, লম্পট অলক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অলকের মাকে ধরে আনে। তখন স্বজনরা অলককে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় এবং অলকের মাকে ছাড়িয়ে নেয়।


বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদি হয়ে 'বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে' অভিযোগ দায়ের করলে তাঁরা মামলা গ্রহণ করেছেন এবং লম্পট অলককে গ্রেফতার করেছেন। মেয়েটিকে ভোলা সদর হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে সেইভহোমে(সংশোধনাগারে) পাঠানো হবে। কারণ মেয়েটি এখনও নাবালক।