অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


হাজার কোটি টাকা গিলে খাচ্ছে জলাবদ্ধতা!


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ই জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:১৫

remove_red_eye

৫২

রাজধানীতে বর্ষা এলেই যেন উন্নয়নের সব দাবি ভেসে যায় বৃষ্টির পানিতে। মাত্র আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মাঝারি কিংবা ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা, ব্যবসাকেন্দ্র, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর সামনেও সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটু থেকে কোমরসমান জলাবদ্ধতা। থমকে যাচ্ছে যান চলাচল, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

অথচ এই জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক দশকে বাস্তবায়ন হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ উন্নয়ন, পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, বক্স কালভার্ট সংস্কার, সড়ক উন্নয়ন—সবকিছুর জন্য বরাদ্দ হয়েছে বিপুল অর্থ। কিন্তু বাস্তবে বর্ষা নামলেই রাজধানী পরিণত হচ্ছে অস্থায়ী জলনগরীতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনার দুর্বলতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের ত্রুটি, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ধ্বংসের কারণেই কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের সুফল মিলছে না।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ধানমন্ডি ২৭, গ্রিন রোড, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, মালিবাগ, মগবাজার, শান্তিনগর, বাসাবো, খিলগাঁও, নিউমার্কেট, কালশী, কারওয়ান বাজার, সায়েদাবাদ, শনিরআখড়া, হাতিরঝিলসহ অসংখ্য এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে, কোথাও দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। অফিসফেরত মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। অনেক এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ধানমন্ডি ২৭, গ্রিন রোড, কাঁঠালবাগান, পল্টন, মগবাজার, মতিঝিল, ফকিরাপুল, মালিবাগ, শান্তিনগর, খিলগাঁও ও বাসাবোসহ অন্তত ১১টি এলাকায় প্রায় প্রতিটি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়।

নগরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। বরং প্রতি বছর নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা এলেও দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বাড়ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর জলাবদ্ধতা এখন আর কেবল মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। একদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অন্যদিকে খাল-নালা ভরাট, জলাধার দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গত কয়েক দশকে ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এক সময় যে খাল, বিল ও জলাভূমি বৃষ্টির পানি ধারণ ও নদীতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত, সেগুলোর বড় অংশই এখন দখল, ভরাট কিংবা সংকুচিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি আটকে পড়ছে নগরের ভেতরেই।

Rain2

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার অনেক এলাকায় ড্রেন থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে খাল বা নালার কার্যকর সংযোগ নেই। আবার অনেক বক্স কালভার্ট বর্জ্যে ভরে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি কোথাও গিয়ে আটকে থাকে এবং দ্রুত নামতে পারে না।

অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ বলেন, প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেমের অংশ হিসেবে খাল ও জলাধারকে সর্বোচ্চ উপযোগী করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম ড্রেনগুলো রুটিন মেনে পরিষ্কার না করায় সুফল পাচ্ছি না। এছাড়া প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ড্রেনেজের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো এবং একটি ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা জরুরি। প্ল্যান ছাড়াই বিচ্ছিন্নভাবে উদ্যোগ চলায় সামগ্রিক ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এ অবস্থার মধ্যেই রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক দশকে বিভিন্ন সংস্থা বাস্তবায়ন করেছে একাধিক বড় প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে, সময় বেড়েছে, অথচ নাগরিক সুবিধা বাড়েনি।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সড়ক, ফুটপাত, ড্রেনেজ, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, কসাইখানা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন এবং নগর ভবনসহ বিভিন্ন নাগরিক অবকাঠামোর উন্নয়ন। প্রকল্পটি শুরুতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ হাজার ৭১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। অর্থাৎ প্রায় ৫১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হয়। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের মেয়াদও একাধিকবার বাড়ানো হয়। প্রথমে এক বছর, পরে আরও দুই বছর এবং এরপর আরও তিন দফা সময় বৃদ্ধি করে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।

Rain3

প্রকল্পের আওতায় ১৪০ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক, ৩৬ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৪১ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ উন্নয়ন, ৪৪ হাজার ৫৯৮টি এলইডি স্ট্রিট লাইট, ৩০টি বাসস্টপ, ৫২টি পুলিশ বক্স, ১৮টি পার্ক, ১১টি খেলার মাঠ, দুটি আধুনিক কসাইখানা, তিনটি কবরস্থান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১১টি আবাসিক ভবন এবং ধানমন্ডি লেক ও নগর ভবনের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যদিও প্রকল্পের অগ্রগতি শতভাগ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় এখনো উন্নয়নকাজ চলমান। অনেক ড্রেনেজ অবকাঠামো কার্যকর হয়নি। বর্ষা এলেই যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তার বেশ কয়েকটিই এই প্রকল্প এলাকার মধ্যে পড়ে। ফলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এদিকে শুধু দক্ষিণ সিটি নয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্প। ২০১৬ সালে একনেক অনুমোদিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সদর, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রথমে ৫৫৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। পরে নকশা পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নতুন কাজ যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও ডিএনডি এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাননি। বরং জুরাইনসহ কয়েকটি এলাকায় আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কোথাও কোথাও রাস্তা উঁচু করা হলেও আশপাশের বসতবাড়ি নিচু হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে।

Rain4

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নের একাধিক দুর্বলতা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যথেষ্ট বাস্তবসম্মত ছিল না। মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় ও সময় কম ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বাস্তবায়ন পর্যায়ে একাধিকবার নকশা পরিবর্তন, নতুন কাজ সংযোজন ও সময় বৃদ্ধি করতে হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও সুস্পষ্ট কোনো কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।

আইএমইডির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নিয়মিত খালে বর্জ্য ফেলা, পলি জমে যাওয়া, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিতভাবে সাঁকো ও কালভার্ট নির্মাণের কারণে প্রকল্পের সুফল অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ অবকাঠামো নির্মাণ করলেও সেটি টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে কয়েক বছর না যেতেই অনেক স্থানে আগের সমস্যাই ফিরে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতার মূল সংকট কেবল ড্রেনের নয়; এটি পুরো নগর পরিকল্পনার সংকট। খাল, জলাশয়, ড্রেন ও নদীর মধ্যে যে স্বাভাবিক সংযোগ থাকার কথা ছিল, তা বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয়েছে। ফলে ড্রেনে পানি গেলেও শেষ পর্যন্ত তা বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) সাম্প্রতিক গবেষণাও একই চিত্র তুলে ধরেছে। গবেষণায় ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক ভূমি জরিপ এবং ২০২২ সালের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত আট দশকেরও বেশি সময়ে ঢাকার প্রায় ১২০ কিলোমিটার খাল হারিয়ে গেছে। কোনোটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়েছে, কোনোটি দখলের কারণে সংকুচিত হয়েছে, আবার কোনোটি বক্স কালভার্টের নিচে চাপা পড়ে প্রাকৃতিক প্রবাহ হারিয়েছে।

গবেষকদের মতে, একসময় ঢাকার চারপাশের খাল, বিল ও জলাভূমিই ছিল শহরের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি এসব খাল দিয়ে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে চলে যেত। কিন্তু নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বাভাবিক প্রবাহ ভেঙে পড়েছে। এখন বৃষ্টির পানি শহরের ভেতরেই আটকে যাচ্ছে।

Rain5

আরডিআরসির মানচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার ভেতরে ৭৭টি খাল, চ্যানেল ও লেকের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খাল সম্পূর্ণ দখল বা বিলীন হয়ে গেছে। রূপনগর ও ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ রূপনগর মেইন খাল মারাত্মকভাবে দখল ও দূষণের শিকার। মিরপুর ১১, কালশী ও আশপাশের এলাকার পানি নামার কথা ছিল বাউনিয়া, বাইশটেকী ও সাংবাদিক কলোনি খাল দিয়ে। কিন্তু এই তিনটি খালই এখন কার্যত মৃতপ্রায়।

একইভাবে টোলারবাগ, কাজীপাড়া ও কাফরুল এলাকার পানি আটকে যাচ্ছে কল্যাণপুর খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায়। ধানমন্ডি ২৭, হাতিরপুল ও পান্থপথ এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ ছিল পান্থপথ খাল। সেটিকে বক্স কালভার্টে রূপান্তর করায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধানমন্ডি, গ্রিন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খালকে বক্স কালভার্টে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেতরে বর্জ্য জমলেও সহজে পরিষ্কার করা যায় না। ফলে পানি নিষ্কাশন আরও ধীর হয়ে যায়।

বর্তমানে রাজধানীতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হলেই ১০৩টি জলাবদ্ধতার হটস্পট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৬৫টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮টি স্পট।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসা থেকে রাজধানীর বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, একক কর্তৃত্বের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দুই সিটি করপোরেশনে এখনো পানি নিষ্কাশনের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক পরিচালনা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। প্রকৌশল বিভাগের বিদ্যমান জনবল দিয়েই অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

Rain-6

ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন জানান, রাজধানীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে পুরো পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাকে নতুন করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ বা পুরোনো ড্রেন পরিষ্কার করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আন্তরিকতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাবিকুল ইসলাম হাসান বলেন, নগরবাসীর একটি অংশই খাল, ড্রেন ও জলাশয় দখল এবং বর্জ্য ফেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। অনেক স্থানে পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেনে সংযুক্ত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও বেশি পাম্পিং স্টেশন, উন্নত ক্যাচপিট, কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং আশপাশের নদ-নদীর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে ডিএসসিসি এলাকায় বিদ্যমান পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত পানি সরানো সম্ভব হয় না।