অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৮ই জুলাই ২০২৬ | ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩


শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ই জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৯

remove_red_eye

৩৭

সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সারাদেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। আলোচিত কিছু ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আবার অধিকতর তদন্তের পর কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক শাস্তিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টোরির সাঙ্গু ব্যাংকুইট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গঠন, মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার, মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার ক্ষত অনেকেই এখনো বহন করছেন।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল সব সময় সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সামাজিক কার্যক্রম তুলে ধরল যুবদল

সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরে সংগঠনের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ অনুষ্ঠানে ২৪–এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৭৮টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকার গিফট বক্স ও সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম শাওনের পরিবারকে নগদ অর্থের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকার এফডিআর করে দেওয়া হয়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলি ইউনিয়নের যুবদল নেতা শাওন প্রধানের পরিবারকেও নগদ অর্থ ও ৫ লাখ টাকার এফডিআর দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ. আর. মামুন খান প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা, মিরুখালী ও অমরাগাছিয়া ইউনিয়নে তিনটি সেতু নির্মাণ করে দেন, যার মাধ্যমে ৯টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির তত্ত্বাবধানে চার শতাধিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে সাদা ছড়ি, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফতুল্লার জোড়া খাল, কাইল্যানি খাল ও লালপুর খাল পরিষ্কার করা হয়। ক্যানসার আক্রান্ত ছাত্রদল নেতা রিফাতকে দুই লাখ টাকা এবং রূপগঞ্জের যুবদল নেতা সজিবের ক্যানসার আক্রান্ত সন্তানকে এক লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলা যুবদলের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁশ, কাঠ, সিমেন্টের পিলার, ড্রাম ও ভাসমান কাঠামো ব্যবহার করে একাধিক সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর কর্মসূচি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ৮ জুন নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টোরিতে টানা ১২ ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ জুন ঢাকা বিভাগের জেলা ও মহানগর যুবদলের সঙ্গে জরুরি সভা এবং ১২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৩ জুন নবনির্বাচিত নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মোনাজাত করেন।

অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সপ্তাহ ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১৭ জুন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের উদ্যোগে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের উদ্যোগে মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে নাবিস্কো হয়ে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত আরেকটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পাওয়া গেলে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে রক্তদান কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল।