অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স বিকল


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৫

remove_red_eye

৫৩

ভ্যানগাড়ি দিয়ে রোগী পরিবহনে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

 

আবদুল্লাহ জুয়েল,মনপুরা : ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার দেড় লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। আর  রোগী পরিবহনের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চত্বরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে করে এখানকার জটিল রোগিদের ভ্যানগাড়ি করে পরিবহন করায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এই উপকূলের স্বাস্থ্যসেবা।
এদিকে বর্তমানে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় রুপান্তর করা হলেও হাসপাতালটিতে লোকবলের রয়েছে চরম সংকটে। তারপরও ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিন মাস ধরে রোগী পরিবহনকারী একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি ইঞ্জিন বিকলের কারণে অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে সিজারিয়ান ও অপারেশনসহ জটিল রোগীদের ভ্যানগাড়ি করে অন্যত্র নিতে হচ্ছে।এতে অনেক সময় পথেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।
জানা যায়, ২০১৪ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবন নির্মাণ ও উদ্বোধন করা হলেও আজও ৩১ জনবলের কাঠামো দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত জনবল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতি আরজু বেগম নামে এক রোগীকে গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ঘাটে নিয়ে স্পিডবোটযোগে নোয়াখালী পাঠানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 
রোগীর স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স বিকল থাকায় ভ্যানগাড়িতে করে ঘাটে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ছোট ট্রলারযোগে নোয়াখালী হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।


হাসপাতালে ভর্তি রোগী আমিন, কাদের ও সফিজল অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে পড়ে থাকায় ভ্যানগাড়ি করে হাসপাতালে আসতে হচ্ছ।এছাড়াও দিনে-রাতে মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রবেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, চরম সংকটের মধ্যেও চিকিৎসকরা দিন-রাত দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স বিকলের বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চরফ্যাশন-মনপুরার সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করতে প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় কেউ ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করলে দ্বীপের অসহায় রোগীদের সেবায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।