অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিশাল সমাবেশ, দেশে ফিরলেন প্রতিষ্ঠাতা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:৪১

remove_red_eye

৪৬

ভারতের সংসদ ভবনের নিকটবর্তী দিল্লির সমাবেশস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করছে আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে যোগ দিতে দেশে এসেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

এ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

 

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকেই দলে দলে ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) সমর্থক যন্তর মন্তরে হাজির হন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরেছেন অভিজিৎ। সমাবেশকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

 

দিল্লিতে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ বলেন, “যন্তর মন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। ভালোবাসা ও শান্তির মধ্য দিয়েই আমাদের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে।

 

এর আগে চলতি সপ্তাহে অভিজিৎ ঘোষণা দেন, বিভিন্ন পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করতে তিনি ভারতে ফিরছেন।

এদিকে শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৫ জুনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তিনি আন্দোলনে অংশ নেবেন।

সমাবেশ ঠেকানোর চেষ্টা
এই সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ‘ককরোচ’ সমর্থকদের সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লির বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোস্টেশন ও জাতীয় সড়কের প্রবেশপথগুলোতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

তবে মামলার জরুরি শুনানি গ্রহণের আবেদন শুক্রবারই (৫ জুন) খারিজ হয়ে যায়। তারপরই শনিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা নেই।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যেভাবে যাত্রা
ভারতের তরুণদের মধ্যে আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে গত মে মাসে যাত্রা শুরু করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যে এই পার্টি গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করলে তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের উদ্যোগ নেন। 

প্রথমে এটি ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি রসাত্মক প্রতিবাদ, কিন্তু দ্রুতই লাখো তরুণ এতে যুক্ত হন। বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম ও তরুণদের হতাশাকে সামনে এনে আন্দোলনটি জনপ্রিয়তা পায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিজেপি কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করে এবং অনলাইন ব্যঙ্গ থেকে বাস্তব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ নেয়।