রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায়
বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : কিংবদন্তি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ৯ বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তৃতীয় জানাজা শেষে
সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে মা-বাবা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এদিকে তোফায়েলের পুরো গ্রামে ছিল শোকাবহ পরিবেশ। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন শেষবারের মতো প্রিয় নেতার মুখ দেখতে।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১ টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে তার মরদেহ ভোলায় আনা হয়। এদিকে জানাজায় অংশ নিতে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকেই দূরদূরান্ত হতে মানুষ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে মাঠে মানুষের ঢল নামে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২ টার দিকে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের বহনকারী গাড়ি মাঠে প্রবেশ করে। এ সময় তাকে বহন করা গাড়িটিকে জাতীয় পতাকা দ্বারা আবৃত করে, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে গার্ড অব অনার দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা জানানো হয় । পরে ভোলা খলিফা পট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন তার জানাজা পড়ান।
জানাজা নামাজে ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম সহ, বিজেপি, কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, সুশীল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ তীব্র রোদ আর গরম উপেক্ষা করে অংশ গ্ৰহণ করেন।
এদিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্ৰামের বাড়িতে। সেখানে মসজিদ প্রাঙ্গণে মাঠে মরহুমের তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।
অপরদিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম ও রহিমের জানাজার অনুমতি দেয়া হয় নি অভিযোগ তুলে সেই ঘটনার প্রতিবাদে বেলা ১২ টার দিকে ভোলা যুবদলের নেতা কর্মীরা তোফায়েল আহমেদের জানাজা নামাজস্থল ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে বাধা সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তাঁরা আওয়ামী লীগের আস্তানা, এই ভোলাতে রাখব না’ সহ নানান স্লোগান দেন। তাঁরা জানাজার স্থান পরিবর্তন করার দাবি জানান। পরে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিয়ন্ত্রণ আনেন এবং পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জানাজা মাঠে পুলিশ ও কোষ্টগার্ড কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন।
তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন । গত সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন তিনি।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে তোফায়েল আহমেদ মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রমনিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।