বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২৬ সকাল ১০:২০
৬৬
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে তার জন্মস্থান দ্বীপ জেলা ভোলায় সর্বমহল থেকেই শোক প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনীতির মতবিরোধ ভুলে তাকে ইতিহাসের কালপূরষ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর মুহুর্তে জন্মস্থান ভোলায় ছড়িয়ে পড়লে শোকাহত হন দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রা। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম।
রাজনীতির উর্ধে শোক জানিয়ে জানিয়ে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন ভোলার মানুষ একজন অভিভাবক হারিয়েছেন। তিনি কৃতি মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত গোলাম নবী আলমগীর। দলের বাইরে সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখতে চাইতেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই সম্পর্ক ছিল বলেও জানান বিএনপির সিনিয়র এই নেতা। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ রাইসুল আলম জানান, তিনি চান তোফায়েল আহমেদের জানাজা শান্তিপূর্ন পরিবেশে জেলার বৃহত্তর মাঠ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। বয়জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার মৃত্যুতে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে শোক জানান।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বলেছেন, “তিনি একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ)-এর চার শীর্ষ নেতার একজন ছিলেন তিনি শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন কালের স্বাক্ষী। তাঁর মতো প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী ভবিষ্যতে আর পাওয়া যাবে না। এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
তিনি আরও বলেছেন, “ভোলা পরিচিতি ছিল তোফায়েল আহমেদের ভোলা হিসেবে। ভোলা বললেই মানুষ বলতো ‘তোফায়েলের ভোলা’। সেটি ছিল আমাদের গর্ব, যা এখন হারিয়ে যাবে।” বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ( বিজেপি) ’র জেলা কমিটির সাধান সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ জানান, তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কোন কালে পূরণ হবে কিনা তা তিনি জানেন না। তিনি ছিলেন ভোলার মানুষের অভিভাবক । তার মৃত্যুতে শোক জানানোর পাশাপাশি রুহের মাকফেরাত কামনা করেন বিজিপি’র ওই নেতা। জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে তিনিও গভীর শোক প্রকাশ করেন। তার ভালো কাজগুলো আল্লাহ যেন কবুল করে নেন। ভালো কাজের জন্য তার জান্নাতবাস কামনা করেন জামায়েতে ইসলামীর এই নেতা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনে জানান, তিনি ছিলেন সংগঠন ও রাজনীতির বাতিঘর। তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাকারিয়া হোসাইন অমি বলেন, “তোফায়েল আহমেদ ভোলার শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরুর মাহমুদ নিলয় বলেন, “তিনি ছিলেন অভিভাবকসুলভ নেতা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ ও জনসেবার শিক্ষা আমাদের রাজনীতিতে পথ দেখাবে। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং ভোলাবাসীসহ সবার কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।” এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শোকবার্তা ও স্মৃতিচারণমূলক স্ট্যাটাস দেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তোফায়েল আহমেদ ভোলা জেলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্ম গ্রহণ করেন। ওই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ইসমাইল কাজি জানান, তিনি খুবই ব্যথিত। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠককে হারালেন। তার গ্রামের বাড়ির মসজিদ চত্বরে জানাজা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হতে তিনি সম্পৃক্ত থাকবেন বলেও জানান। ইতিপূর্বে তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের জানাজায় অংশ গ্রহণসহ দাফন পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান। এদিকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মনে করেন রাজনীতির মতপার্থক্য থাকতে পারে। তোফায়েল আহমেদ ভোলার সন্তান হিসেবে তারাও গর্বিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে সবাই শোক জানিয়েছেন। তোফায়েল আহমেদের ভাই’এর ছেলে খায়রুল হাসান খোকন জানান, মঙ্গলবার বাদ জহুর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তার পর গ্রামের বাড়ির চত্বরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও বাবার কবরের পাশে তাঁকেও দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ ও ফাতেমা খানম মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শোক জানান আজাহার-ফাতেমা হাসপাতালের স্টাফ, ফাতেমা খানম জামে মসজিদের ঈমাম, মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকরা।
৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমলো হার্টের রিংয়ের দাম
বিয়ে বিতর্কে নাসির-তামিমার জয়, উচ্চ আদালতে যাবেন রাকিব
স্মারকলিপি জমা, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের
মনপুরায় নিষিদ্ধ সেই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মামলা
মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স বিকল
ভোলায় সুজনের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
লালমোহনের বেতুয়া খালে অবৈধ ১০ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
লালমোহনে জমিজমা সংক্রান্ত সালিশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
৩৮৯০ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন
আ.লীগের নেতাকর্মীসহ যে কেউ স্থানীয় নির্বাচন করতে পারবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক