অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর ২০২০ | ১৫ই কার্তিক ১৪২৭


মনপুরায় প্রতারনা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো ইনসাফ কোম্পানীর


মেহেদি হাসান নাহিদ ,মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২০ রাত ১০:৪৮

remove_red_eye

১৩৯



টাকা ফিরে পেতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় শত শত নি¤œ আয়ের মানুষদের থেকে মাসিক তিনশত, পাঁচশত ও একহাজার টাকা করে  ডিপিএস এর টাকা সংগ্রহ করে ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ডিপিএস এর টাকা সংগ্রহ করে।
কিন্তু গ্রাহকদের জমাকৃত ডিপিএস এর মেয়াদ ৬ মাস থেকে বছর অতিবাহিত হলেও টাকা ফিরত না দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড নামে এমএলএম কোম্পানী।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজারের ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানীর অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন শতাধিক পুরুষ ও মহিলা গ্রাহকরা। এর অগে কোম্পানীর কর্মকর্তারা অফিসে তালা মেরে চলে যায়।

বিক্ষোভ চলাকালে গ্রাহক অসুরা খাতুন, বকুল, তাজরা বেগম, অহিদা বেগম, বিবি শহিদা, রিজিয়া বেগম, শাহজাহান, আল-আমিন, নিরব, জামাল, কামাল, আবুল হোসেন, জসিম সহ অনেকে জানান, আমরা খাইয়া না খাইয়া ডিপিএস টাকা শামীম মাষ্টারের কাছে দিছি। ডিপিএস এর মেয়াদ ৬ মাস শেষ হইয়া গেছে কিন্তু ওরা কোন টাকা দেয়না। গত ৬ মাসে ১০ বার তারিখ দিছে কিন্তু এখনো টাকা দেয়নি। আজ ( বুধবার) শেষ তারিখ ছিল কিন্তু অহন অফিসে আইসা দেখি তালা মারা। এই পর্যন্ত ওরা ৮ থেকে ১০ বার তারিখ দিছে আমাগো টাকা দেয়না। ওরা হিসাব করবো কইয়া আমাগো ডিপিএস’র কাগজপত্র সব লইয়া গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে দুপুর ২ টায় ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড এর বাংলা বাজার ও হাজিরহাট অফিসের কর্মকর্তা কাউছার সিকদার ও মিজানুর রহমান আসলে  বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রাহকরা। এই সময় উগ্র আচরন করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়। পরে অক্টোবরের ১০ তারিখে সব টাকা দিবে বলে গ্রাহকদের কাছে লিখিত অঙ্গিকার করলে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়।

জানা যায়, ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড প্রথমে রিমটাচ্ নামে অফিস খুলে। পরে খেটে খাওয়া মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দ্বিগুণ লাভ দেখিয়ে ৩ শত, ৫ শত  ও একহাজার টাকা ডিপিএস এর নামে সংগ্রহ করে। ইে কোম্পানীটি মানুষদের কিস্তিতে ফ্রিজ, জাল, সেলাই মেশিন, খাট বিক্রি নামে ভিতরে ভিতরে ডিপিএস এর টাকা সংগ্রহ করতো।

এই ব্যাপারে ফকিরহাট বাজারের ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড এর অফিসের দায়িত্ব থাকা মোঃ শামীম মাস্টার জানান, কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে সকল গ্রাহকদের আজ আসতে বলেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ না আসার কারনে গ্রাহকদের পাওনা টাকা দিতে পারিনি।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড এর দায়িত্বে থাকা মোঃ মহিবুল্লাহ জানান, আমি ভোলায় তাই গ্রাহকদের পাওনা টাকা দিতে পারিনি। ডিপিএস এর নামে টাকা সংগ্রহ করা যাবে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। তবে আগামী মাসের ১০ তারিখে পাওনা বুঝে দেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে পুলিশের এস আই গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে জানান, আগামী ১০ তারিখ গ্রাহকদের টাকা ফিরত দেওয়া হবে বলে ইনসাফের কর্মকর্তারা অঙ্গীকার করেছে। পরে গ্রাহকরা বিক্ষোভ শেষে চলে যায়।