অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ১৯শে এপ্রিল ২০২৬ | ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা মারা যাওয়ার ভান করে বাঁচলো ছেলে, আটক -১


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ই এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:৫৬

remove_red_eye

৪২

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরে ঢুকে ছেলের সামনে দুবাইপ্রবাসীর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৫)কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর ৮ বছর বয়সী ছেলে আবির গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোঃ জিহাদ নামে এক যুবককে আটক করেছে।
শনিবার সকালে পুলিশ খবর পেয়ে নিহত নাসিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সরদার বাড়ির দক্ষিণ পাশে বসবাস করতেন দুবাইপ্রবাসী আল-আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগম। শুক্রবার রাতে খাবার শেষে ছেলে আবিরকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর নাসিমা ও তাঁর ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে নাসিমার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে নাসিমার ছেলে আবিরের ডাক চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এসে পুলিশকে খবর দেয়। 
শিশু আবির জানান, রাতের আঁধারে জামাল মেম্বারের ছেলে জিহাদ ঘরে প্রবেশ করে তার মাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এসময় তাকেও আঘাত করে। পরে সে মারা যাওয়ার ভান করলে জিহাদ চলে যায়। এরপর সে ঘরের বাইরে এসে ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে।
নিহত নাসিমার চাচা-শ্বশুর নাজিম উদ্দীন জানান, ছেলেটি গুরুতর আহত অবস্থায় ছুটে এসে তার মাকে হত্যার বিষয়টি আমাদের জানায়। পরে আমরা ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীর লাশ দেখতে পাই। এরপর আমরা ছেলেটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)মোঃ ইব্রাহীম জানান ,আহত শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জামাল মেম্বারের ছেলে মো. জিহাদকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার ভোলা হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন শিশুকে দেখতে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আহত শিশু আবিরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পাশাপাশি পুলিশ সুপার এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।