অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৯শে আগস্ট ২০২৬ | ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩


ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১৪ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:০২

remove_red_eye

১৭১

অচিন্ত্য মজুমদার : পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ভোলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলছে। বেশি দামে বিক্রির আশায় জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন, আর ঘাটগুলোতে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ, যার দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
সোমবার সকাল থেকে ভোলার দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল মাছঘাট, চৌকিঘাট ও সদর উপজেলার ভোলারখাল ও ইলিশা মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে নামানো ইলিশ দ্রুতই আড়তদার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন জেলেরা। বাইরে থেকে এটি স্বাভাবিক বেচাকেনা মনে হলেও বাস্তবে পুরো কার্যক্রমই চলছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। 
মৎস্য বিভাগ মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এই সময় সব ধরনের মাছ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে মনপুরার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনার ৯০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে যে আকারের ইলিশ এক হালি (চারটি) চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালিও ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
দৌলতখান পাতার খাল মাছ ঘাটে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা আছে জানি, কিন্তু পেট তো মানে না। বৈশাখে মাছের দাম বেশি, এই সময় না ধরলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।”
সেখানকার আড়তদার ইউসুফ মুন্সী বলেন, “চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। ক্রেতারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন। আমরা শুধু বিক্রি করছি।”
সদর উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও কামরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ঐতিহ্যের কারণে চড়া দামেও অনেকে ইলিশ কিনছেন। পরিবারের নারী ও বাচ্চারা বায়না ধরে পান্তা ইলিশ খাওয়ার জন্য। তাই একটা দিনের জন্য দামের দিকে না তাকিয়ে মাছ পাওয়াটাই আমরা গুরুত্ব দেই।
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক সম্পর্ক নেই। আমরা ইলিশকে উৎসাহিত করতে চাই না। এই সময় ইলিশ ধরা বন্ধ না হলে এর প্রজনন ব্যাহত হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা চলছে। কেউ আইন অমান্য করে মাছ ধরলে বা বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৩ শতাংশ আসে। ফলে এই অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 





কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

শিশুসহ প্রাণ গেল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতির

শিশুসহ প্রাণ গেল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতির

আরও...