নেয়ামত উল্যাহ : ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের অংশ মেঘনার মাঝে জেগে ওঠা দুর্গম চর নেয়ামতপুরের দুটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। স্কুল দুটিতে এখন ক্লাস বন্ধ রয়েছে। নেয়ামতপুর ছাড়াও পাশের ইউনিয়ন মদনপুরের একটি স্কুলসহ কয়েকটি পরিবারের ঘরের ক্ষতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এবং তাঁর আগে ঝড়ের তান্ডবে স্কুল ঘর ও বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় কয়েজন চরবাসীর ঘরের চাল উড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
চর নেয়ামতপুর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বসির আহমেদ হাওলাদার বলেন, গত কয়েক দিন যাবৎ ঝড়-বাতাসের চরের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে নেয়ামতপুর উপ আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের ঘরের টিন উড়ে গেছে। চরের বাসিন্দা রফিক মাতব্বর বলেন, ঝড়ে তাঁর ঘরের চাল উড়ে গেছে।
একই উপজেলার চর মদনপুরের মো. আমির হাওলাদার জানান, তাঁদের কলোনীর অনেকের ঘরের চালা উড়ে গেছে। তাঁর নিজের ২ টা টিন উড়ে গেছে।
চরপদ্মা আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো ইয়ারুল আলম বলেন, তাঁদে স্কুলের বাথরুমের সবগুলো টিন উড়ে গেছে।
ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরমুন্সি গ্রামের কামাল মাঝি জানান, তাঁর পাকের ঘরের চালার টিন উড়ে গেছে।
নেয়ামতপুর-উ-উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের স্কুলে শতাধিক ছাত্র। কয়েক দিন আগে স্কুল ঘরটি ঝড়ে উড়ে গেলে, ক্লাশ বন্ধ রয়েছে।
পশ্চিম নেয়ামতপুর বীরমুক্তি যোদ্ধা সামছুদ্দিন আহাম্মদ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক- মো. এমরান বলেন, তাদের স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী। গত কয়েক দিন আগে স্কুলের বারান্দার চাল উড়ে গেছে ঝড়ে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্কুলঘরের সম্পূর্ণ চাল উড়ে যাওয়ার কারণে ক্লাশ বন্ধ আছে।
চরের বাসিন্দা আজাদ মাঝি বলেন, মেদুয়া ইউনিয়নের অংশ মেঘনা নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরে নেয়ামতপুরে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বাস। ৪০০-৫০০ শিশু স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু এখানে কোনো স্কুল না থাকার কারণে শিশুরা বাবার গরু মহিস পালন, মাছ শিকার, পাখি শিকার, চাষবাসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে নেয়ামতপুর সমবায় সমিতির নেতারা চেষ্টা তদবির করে চরের উত্তর-দক্ষিণে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে যারা ক্লাশ করে তাদের টিকমতো বেতন দিতে পারে না। আসপত্রের সংকট রয়েছে। যতোটুকু ঘর ছিল তা-ও ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। জানি না কবে সংস্কার করতে পারবে।
চরের বসির আহমেদ হাওলাদার, আজাদ মাঝি, রফিক মাতব্বর, মো কামালসহ একাধিক ব্যক্তির দাবি চরের স্কুল দুটি পাকা ভবন করে সরকারি করা হোক!
কিন্তু স্কুল দুটির বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ উদ্দিন বলেন, স্কুল দুটির বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই।
জানতে চাইলে দৌলতখান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় দুটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, তাঁর জানা নেই। স্কুলে শিক্ষক যোগাযোগ করলে যথাযথ ব্যাবস্থা নেবেন।