অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | ২২শে চৈত্র ১৪৩২


কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সার-বীজ দেওয়া হবে কৃষকদের


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১শে মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:৫২

remove_red_eye

৮০

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক কৃষকদের দুই হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও কৃষিকাজে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবলমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা হিসেবে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

 

কৃষির উন্নয়নে সরকারের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

কৃষকদের ঋণ মওকুফের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

এই কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যার সুফল পাচ্ছেন দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক।

 

সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষকের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের সুবিধার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও জানান, শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য দেশে ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

 

 

সরকারের এসব বাস্তবমুখী নীতি ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে দেশে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি ও ফলসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।