অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ই আশ্বিন ১৪২৭


যে কারণে বোরো সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন হয়নি


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২০ রাত ১১:০৮

remove_red_eye

৫৮

  চলতি বোরো মৌসুমে ২ কোটি মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। সরকারিভাবে সাড়ে ২১ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও তা পূরণ হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারণ করে দেওয়া দামের সঙ্গে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় টার্গেট পূরণ হয়নি।  খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২৬ টাকা কেজি দরে বোরো ধান, ৩৬ টাকা কেজিতে সিদ্ধ ও আতপ চালসহ ২১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।  গত ২৬ এপ্রিল থেকে ধান এবং ৭ মে থেকে বোরো চাল সংগ্রহ শুরু হয়ে গত ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু করোনা ও বন্যার কারণে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।  গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ১৩ হাজার ৭০ মেট্রিক টন বোরো ধান, ৬ লাখ ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৮৯ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মিল মালিক চুক্তি অনুযায়ী চাল দেয়নি সংগ্রহের সময়সীমা শেষ হলে সে তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার ধান-চাল কেনার যে দাম নির্ধারণ করেছিল, বাজারে তার থেকে বেশি দাম থাকায় অনেক মিলমালিক সরকারকে চাল দেয়নি।  নির্ধারিত সময় শেষে মিলারদের মূল্যায়ন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, দেশের বাজারে চাল ৪০-৪১ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।  সেই চাল মিলারদের কাছ থেকে সরকারক ৩৬ টাকা কিনছে।  এ কারণে যাদের কম দামে চাল দেওয়ার ক্ষমতা নেই তারা সরকারকে চাল দেয়নি।  করোনা ও বন্যার কারণে অনেক মিল মালিক নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্ট হচ্ছে।  খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, মিলারদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের কাছেও প্রচুর খাদ্যশস্য মজুত আছে।  বাজারে কেজিতে ৩-৪ টাকা বেশি দাম পাওয়ায় মিলাররা সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে না।  তাই এ সপ্তাহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করবে।  এর প্রভাব বাজারে পড়বে। চালের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় মজুত চাল অনেকেই বাজারে ছেড়ে দিবে। বাধ্য হয়ে মিলাররা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হবে।  খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তির পরও যেসব রাইস মিল চাল সরবরাহ করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  যারা চুক্তির পরেও চাল দেবে না, তারা যাতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কোনো সুবিধা না পায় সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হবে।  তিনি আরও বলেন, যেসব মিলার সরকারকে চাল সরবরাহ করেছে তাদের আলাদা তালিকা, যারা চুক্তিবদ্ধ হয়েও ধান-চাল সরবরাহ করেনি তাদের তালিকা হবে। যারা শতভাগ চাল সরবরাহ করেছে তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে। আর  যারা দেয়নি তাদের পরবর্তি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হেবে। রাইজিংবিডি.কম